কবে সরস্বতী পুজো?
শীতের শেষে বসন্তের প্রথম ডাক মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে প্রস্তুতি সরস্বতী পুজোর। হলুদ শাড়ি, বাসন্তী রঙের ফুল, আমের মুকুল আর দোয়াত-কলম—সব মিলিয়ে এই দিনটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বিদ্যা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। বিদ্যা, জ্ঞান ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনা এ বছরও জানুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী সরস্বতী বৈদিক দেবী। তাঁর চার হাতে রয়েছে বই, জপমালা, জলের পাত্র ও বীণা। বই বিদ্যার প্রতীক, জপমালা জ্ঞানের, জলের পাত্র সৃষ্টি ও পবিত্রতার, আর বীণা সঙ্গীত ও সৃজনশীলতার প্রতীক। শ্বেতপদ্মে আসীন এই দেবীর আরাধনা মানেই জীবনে আলোর আহ্বান।
বসন্ত পঞ্চমীর দিন অভ্র, আবির, আমের মুকুল, যবের শীষ আর কলম-খাতা দিয়ে দেবীকে পূজা করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—অনেকেই নতুন খাতা-কলমে প্রথম অক্ষর লেখেন দেবীর নাম স্মরণ করে।
এ বছর কবে সরস্বতী পুজো?
২০২৬ সালে সরস্বতী পুজো পড়েছে
২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার।
তবে তিথির হিসেব জানতে অনেকেই পঞ্জিকার দিকে তাকিয়ে থাকেন। দেখে নেওয়া যাক দুই জনপ্রিয় পঞ্জিকার সময়সূচি—
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী
- পঞ্চমী তিথি শুরু:
২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার
৮ মাঘ
রাত ২টা ৩০ মিনিট - পঞ্চমী তিথি শেষ:
২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার
৯ মাঘ
রাত ১টা ৪৭ মিনিট
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী
- পঞ্চমী তিথি শুরু:
২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার
৮ মাঘ
রাত ১টা ৩৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড - পঞ্চমী তিথি শেষ:
২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার
৯ মাঘ
রাত ১২টা ২৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ড
এই হিসেব অনুযায়ী, মূল পুজো পালনের জন্য ২৩ জানুয়ারির সকালই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
কেন এই দিনটি এত বিশেষ?
সরস্বতী পুজো কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এটি শিক্ষার প্রতি সম্মান জানানোর এক সুন্দর উপলক্ষ। ছোটদের প্রথম হাতেখড়ি থেকে বড়দের জীবনের পরীক্ষার আগে প্রার্থনা—সব ক্ষেত্রেই এই দিনটি আবেগে ভরপুর। ঘরে ঘরে হলুদ সাজ, মিষ্টির গন্ধ আর পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্রোচ্চারণে এক অন্যরকম শান্তির আবহ তৈরি হয়।
এই বসন্ত পঞ্চমীতে, বিদ্যার দেবীর কাছে প্রার্থনা—জীবনে জ্ঞান, সৃজনশীলতা আর শুভবুদ্ধির আলো যেন সর্বদা জ্বলে থাকে। তাই ক্যালেন্ডারে তারিখটি টুকে রাখুন, প্রস্তুত থাকুন বিদ্যার দেবীর বন্দনায়।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা