জঙ্গি দমন অভিযানে ভারতের পাল্টা আঘাত: কসাব-হেডলির প্রশিক্ষণকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিল ‘অপারেশন সিঁদুর’

কসাব-হেডলির প্রশিক্ষণকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিল ‘অপারেশন সিঁদুর’! ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত হন ২৬ জন সাধারণ মানুষ। তারই প্রতিশোধ নিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হয় ভারতের পাল্টা অভিযান— ‘অপারেশন…

May 8, 2025
1 min read

কসাব-হেডলির প্রশিক্ষণকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিল ‘অপারেশন সিঁদুর’!

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত হন ২৬ জন সাধারণ মানুষ। তারই প্রতিশোধ নিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হয় ভারতের পাল্টা অভিযান— ‘অপারেশন সিঁদুর’। লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি, যার মধ্যে চারটি ছিল পাকিস্তানের মাটিতে, বাকি পাঁচটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। সেনাবাহিনীর সুনির্দিষ্ট হামলায় মাত্র ২৫ মিনিটে এই সমস্ত ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকেই এই ৯টি জায়গার হদিস দিয়ে রেখেছিল। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বহাওয়ালপুর, মুরিদকে এবং সিয়ালকোট ছিল মূল লক্ষ্য। এই জায়গাগুলিই দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর ছিল। বহাওয়ালপুরের জামিয়া মসজিদ শুভান আল্লাহ্-র আশেপাশের এলাকায় ছিল জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ক্যাম্প। ১৮ একর জুড়ে বিস্তৃত এই শিবিরেই সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ, নিয়োগ এবং মিটিং-মিছিল হত। এখানেই আশ্রয় নিত জইশের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজ়হার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

এই ঘাঁটিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল মারকাজ় ত্যায়বা, যা ছিল লশকর-ই-তৈবার সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পাকিস্তানের মুরিদকে এলাকায় ৮২ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পেই ২৬/১১ মুম্বই হামলার জঙ্গি আজমল কসাব এবং ষড়যন্ত্রকারী ডেভিড হেডলি প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। এমনকি, এই কমপ্লেক্সে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন ওসামা বিন লাদেন নিজে! এখানেই জঙ্গিদের জন্য তৈরি হয়েছিল মাদ্রাসা, গেস্ট হাউস, বাজার, খেলার মাঠ— যেন এক স্বয়ংসম্পূর্ণ সন্ত্রাসী নগরী।

এ ছাড়া মেহমুন জোয়া, শাওয়াইনাল্লা, গুলপুর-সহ একাধিক শিবিরও লক্ষ্যবস্তুতে ছিল। এই সব জায়গা থেকে হিজবুল মুজাহিদিন ও লশকর জঙ্গিরা ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে হামলা চালাত। ২০১৬-র পাঠানকোট হামলা, ২০২৪-এর গুলমার্গ ও পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যেও এই শিবিরগুলির ভূমিকা ছিল বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য— বহাওয়ালপুরের হামলায় মারা গিয়েছে মাসুদ আজ়হারের পরিবারের ১০ জন, যার মধ্যে তাঁর বোন ও শ্যালকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই ক্যাম্পেই নতুন করে বড় হামলার ছক কষছিল আজ়হার। সেই তথ্য পেয়েই ভারতীয় বিমানবাহিনী চালায় এই প্রাণঘাতী আক্রমণ।

‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু প্রতিশোধ নয়, ছিল সতর্ক বার্তা— ভারতের ধৈর্যের সীমা আছে। আর বারবার জঙ্গি হামলার জবাব এবার এসেছে তাদের ঘরে ঢুকে।

অপারেশন সিঁদুর: ভারতীয় প্রতিআক্রমণে মাসুদ আজ়হারের বোন-সহ পরিবারের ১০ জন নিহত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *