আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ‘এক মাসে’ সম্ভব?
ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার গতি হঠাৎই বেড়েছে। যেখানে এমন ধরনের চুক্তি সম্পূর্ণ হতে সাধারণত দুই থেকে তিন বছর লেগে যায়, সেখানে মাত্র এক মাসেই কাজ শেষ করে ফেলতে মরিয়া দু’দেশ। বিশেষ করে ভারত—যে চায় বিশ্বমঞ্চে প্রথম সারির বাণিজ্যিক মিত্রদের তালিকায় নিজের নাম তুলে আনতে। আর সেই কথাই এবার স্পষ্ট করে জানালেন আমেরিকার বাণিজ্যসচিব হোয়ার্ড লুটনিক।
ওয়াশিংটনে একটি আলোচনাচক্রে অংশ নিয়ে লুটনিক বলেন, “যে দেশগুলো আগে এগিয়ে আসে, তারা সেরা চুক্তি পায়। ভারত খুব সচেষ্ট হয়ে উঠেছে সেই তালিকার শীর্ষে থাকতে। আমি বলতেই পারি, এমন উৎসাহ আগে খুব একটা দেখা যায় না। এমনকি আমরা এমন একটি চুক্তি মাত্র এক মাসে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি—যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কয়েক বছর সময় নেয়।”
মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের পর গতি পেল আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সর্বশেষ আমেরিকা সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর থেকেই নতুন করে গতি পায় এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা। ফেব্রুয়ারিতে হওয়া সেই বৈঠকের পর পরই শুরু হয় একাধিক দফার বৈঠক—কখনও ভারতের প্রতিনিধিদল আমেরিকা গিয়েছে, আবার কখনও আমেরিকান প্রতিনিধি এসেছে দিল্লিতে।
গত মাসেও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে লুটনিকের সরাসরি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের ফলেই আলোচনার গতি আরও বাড়ে। এই মুহূর্তে দুই দেশই এমন একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতির সন্ধান করছে, যা অর্থনীতি ও রাজনীতি—দু’দিক থেকেই লাভজনক হতে পারে।
চুক্তির আগে সময়ের চাপ
তড়িঘড়ি এই চুক্তি চূড়ান্ত করার পেছনে রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ঘোষিত শুল্কনীতি। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা সাময়িকভাবে ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৯ জুলাই। তার আগেই চুক্তি সেরে ফেলতে চায় ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশ।
ভারতীয় বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে এই ইস্যুতে কথা বলেন সেদেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে। ফলে জল্পনা বেড়েছে যে, ৯ জুলাইয়ের আগেই হয়তো কোনো বড় ঘোষণা আসতে চলেছে।
ট্রাম্পের ‘আইনি সীমা’ নিয়েও প্রশ্ন
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে আমেরিকার আদালতে। একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত জানায়, ট্রাম্প তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। ফলে শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কতটা টেকে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
তবুও, দ্রুত একটি চুক্তির সম্ভাবনায় আশাবাদী হোয়ার্ড লুটনিক। তাঁর কথায়, “আমরা এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে দু’পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা সম্ভব। শিগগিরই সবাই দেখতে পাবেন ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি হয়েছে।”
সারা দিন “স্নান করে বেরোলাম” লুক—কীভাবে পাবেন তরতাজা ও সতেজ চুলের জাদু?