চিন-ভারত বৈদ্যুতিক শিল্পে সম্ভাবনার নতুন দিশা: বয়কটের আবহ কি বদলাচ্ছে?

বয়কটের আবহ কি বদলাচ্ছে? চিনের সংস্থাগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।…

September 2, 2025
1 min read

বয়কটের আবহ কি বদলাচ্ছে?

চিনের সংস্থাগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বয়কটের ডাক পেরিয়ে, শিল্পক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির জেরে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসালেও বৈদ্যুতিক সামগ্রীকে এই শুল্কছাড়ের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে এই খাতে উৎপাদন বাড়লে শুধু দেশীয় বাজারই নয়, আমেরিকার বাজারেও ভারতের রফতানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চিনের সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক পণ্যের মান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশ্ন তুলতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

সম্প্রতি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠকে অংশ নিতে চিন সফর করেন মোদী। সেখানেই শি জিনপিঙের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। দুই দেশ কোভিড-পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্থলবাণিজ্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারতকে দুষ্প্রাপ্য খনিজ, কৃষি-সার এবং সুড়ঙ্গ খননের যন্ত্র রফতানি করতে চিন প্রস্তুত। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও এই সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সংঘাতের পর দেশে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক উঠেছিল। তার পরেও ভারতের বাজার থেকে চিনা বৈদ্যুতিক সামগ্রী পুরোপুরি উধাও হয়নি। কম দামের পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় এই পণ্যগুলি এখনও জনপ্রিয়। এবার দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি বৈদ্যুতিক শিল্পে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থানীয় উৎপাদকেরা বলছেন, এই সহযোগিতা শিল্পক্ষেত্রে গতি আনবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি রফতানিতেও ভারত লাভবান হবে। বিনিয়োগকারীরাও এই নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তবে পণ্যের গুণগত মান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই যাত্রাপথের মূল নিয়ামক হয়ে উঠবে।

চিনের সঙ্গে সহযোগিতা ভারতের জন্য একদিকে যেমন বৈদ্যুতিক শিল্পে নতুন দিশা খুলছে, তেমনই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার মঞ্চে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগও এনে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব পেরিয়ে দুই দেশের এই শিল্প-বন্ধুত্ব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *