চিনে শ্রমিক-বিস্ফোরণ!
শুল্কযুদ্ধের জেরে কাঁপছে চিনের অর্থনীতি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বিশাল করের চাপ সামলাতে না পেরে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ড্রাগনভূমিতে। হুনান, সিচুয়ান, শানসি থেকে শুরু করে ইনার মঙ্গোলিয়া— দেশজুড়ে কর্মহীন শ্রমিকদের বিক্ষোভ রাস্তায়। ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে বকেয়া বেতন ও চাকরি হারানোর জ্বালায়।
বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারিত ‘রেডিয়ো ফ্রি এশিয়া’র রিপোর্টে উঠে এসেছে, বহু প্রদেশে শ্রমিকরা জোরালো বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের মুখ বন্ধ করতে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ।
চাকরি নেই, বেতন নেই, নিরাপত্তাও নেই
শুধু কারখানা বন্ধ নয়, বহু শ্রমিককে বিনা বেতনে কাজ করানো হচ্ছে মাসের পর মাস। সিচুয়ানের এক ইলেকট্রনিক সংস্থায় বছরের শুরু থেকে বেতন বন্ধ, এমনকি ২০২৩ সালের জুনের পর থেকে সামাজিক সুরক্ষার খরচও দেওয়া হয়নি— যা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
হুনান প্রদেশের ‘গুয়াংজিন স্পোর্টস’ সংস্থার কারখানায় কাজ করা শতাধিক মহিলাকে ছাঁটাই করা হয় বয়সের কারণে, বকেয়া বেতনও দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে ২৪ এপ্রিল ধর্মঘটে নামেন কর্মীরা। ফলে বন্ধ হয়ে যায় পুরো কারখানা।
ট্রাম্পের চাপেই বেজিং নরম?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির শুরু থেকেই চিনের ওপর শুল্কের চাপ তীব্র হয়েছে। চিনা পণ্যে ২৪৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন তিনি, পাল্টা চিন দিয়েছে ১২৫ শতাংশ শুল্ক। তবুও প্রথমে কড়া থাকলেও এখন সুর কিছুটা নরম করছে বেজিং।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। চিনের বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি।”
শ্রমিকদের ক্ষোভেই নড়েছে শি প্রশাসন?
‘ফ্রিডম হাউস’ এর মতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চিনে সংঘর্ষের তিন-চতুর্থাংশই অর্থনৈতিক কারণে, যার মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, আবাসন প্রকল্প থমকে যাওয়া এবং জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব রয়েছে। এসব মিলিয়ে চিনা প্রশাসনের ভিত কাঁপছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুল্কের জবাবে রপ্তানি বন্ধের কৌশল
যদিও ওয়াশিংটনের উপর চাপ বাড়াতে চিন বিরল খনিজ ও চুম্বকের রপ্তানি বন্ধ রেখেছে— যা ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত সবক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। ফলে আমেরিকাও বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
শুল্ক কমানোর বার্তা ট্রাম্পের
শেষমেশ ট্রাম্প নিজেই বলেন, “২৪৫ শতাংশ শুল্ক অনেক বেশি। এটা কমানো হবে, তবে একেবারে শূন্য নয়।” ৯০ দিনের জন্য অন্যান্য দেশের উপর শুল্ক স্থগিত থাকলেও চিন এই ছাড় পায়নি।
তবে সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যেই আলোচনা শুরু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে— চিনের রাস্তায় নামা শ্রমিকেরাই কি তবে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির এই সংঘাতের ইতি টানার আসল কারণ?
🔴 শ্রমিক বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক উত্তাপ— সব মিলিয়ে বেজিং এখন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে। এর ফল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।
কাশ্মীরে টানা ৮ দিন সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন, পাঁচ জায়গায় গুলি পাক সেনার! পাল্টা জবাব দিল ভারতীয় সেনাও