চার-চারটি বিশ্বরেকর্ড মেসির!!
লিয়োনেল মেসির জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস তৈরি হওয়া যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে গোল করে আবারও রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে আসার পাশাপাশি মেসির নামের পাশে রয়েছে আরও একাধিক অনন্য নজির।
বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত রেকর্ড সংস্থা Guinness World Records মেসির বিশ্বকাপের চারটি বড় রেকর্ড তুলে ধরেছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই কীর্তিগুলি।
১. বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোল করার পর মেসি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১৮-তে নিয়ে গিয়েছেন। এর ফলে তিনি পিছনে ফেলে দিয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি Miroslav Klose-কে। এর আগে ১৬ গোল করে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্লোজ়ে। ব্রাজ়িলের Ronaldo Nazário-র বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ১৫।
২. বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার নজির
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার পর তিনি ইতালির কিংবদন্তি Paolo Maldini-র ২৫ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিশ্বকাপে মেসির খেলা ম্যাচের সংখ্যা ২৮।
৩. বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড
শুধু ম্যাচ খেলা নয়, জয়ের দিক থেকেও মেসি সবার উপরে। বিশ্বকাপে তিনি এখনও পর্যন্ত ১৮টি ম্যাচ জিতেছেন। এর আগে ক্লোজ়ে ১৭টি জয় নিয়ে শীর্ষে ছিলেন। ব্রাজ়িলের Cafu বিশ্বকাপে ১৬টি ম্যাচ জিতেছেন।
৪. বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ড
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলার নজিরও রয়েছে মেসির দখলে। এখনও পর্যন্ত তিনি বিশ্বকাপে ২৪৮৯ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন। এর আগে মালদিনির ২২১৭ মিনিটের রেকর্ড ভেঙেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি প্রায় ৪২ ঘণ্টা খেলেছেন।
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি জানিয়েছেন, দলের সাফল্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেসির কথায়, “সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি দল জিতেছে বলে। এই জয়টা আমাদের খুব দরকার ছিল। কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। নকআউটে ওঠায় মানসিক শান্তি পেয়েছি।”
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয় সহজ ছিল না বলেও স্বীকার করেছেন মেসি। তাঁর মতে, বর্তমান ফুটবলে কোনও দলই সহজে হার মানে না। প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা দিতে হয়।
রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েও মেসির লক্ষ্য এখনও একটাই—দলকে সাফল্য এনে দেওয়া। ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়েও আর্জেন্টিনার জার্সিতে আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নই এখন লিয়োর সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?