চন্দননগরে বিদ্যুতের আলোয় জগদ্ধাত্রীপুজো! বদলে গেল বছরের পর বছর পুরোনো প্রথা

চন্দননগরে বিদ্যুতের আলোয় জগদ্ধাত্রীপুজো! দীর্ঘদিনের লোডশেডিংয়ের কষ্ট থেকে অবশেষে মুক্তি পেল আলোর শহর চন্দননগর। এতদিন ধরে জগদ্ধাত্রীপুজোর শোভাযাত্রার দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে যেত। কিন্তু এ…

November 1, 2025
1 min read

চন্দননগরে বিদ্যুতের আলোয় জগদ্ধাত্রীপুজো!

দীর্ঘদিনের লোডশেডিংয়ের কষ্ট থেকে অবশেষে মুক্তি পেল আলোর শহর চন্দননগর। এতদিন ধরে জগদ্ধাত্রীপুজোর শোভাযাত্রার দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে যেত। কিন্তু এ বছর বিদ্যুৎসংযোগ সচল রেখেই প্রতিমা নিরঞ্জন ও শোভাযাত্রা হচ্ছে—এ যেন সত্যিকারের আলোর উৎসব!


💡 বিদ্যুৎ থাকবে, আলোও থাকবে

বিষয়আগের বছরগুলোএ বছর
বিদ্যুৎসংযোগসকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্নসারাদিন বিদ্যুৎ সচল
প্রতিমা বিসর্জন পদ্ধতিবিদ্যুতের ওভারহেড তারে ঝুঁকিমাটির নিচ দিয়ে ১১ কেভি লাইন
জল সরবরাহবন্ধ থাকতনিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা
বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়াসমস্যায় ভুগতেনস্বস্তি ও আনন্দে শহরবাসী

⚡ চন্দননগরে বিদ্যুতের তার গেল মাটির নিচে

দু’বছর আগে শুরু হয়েছিল চন্দননগরের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ প্রকল্প। ১২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে পুজোর আগেই। এর ফলে এখন শহরের প্রায় সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির তলায়, ফলে ওভারহেড তারে প্রতিমা ঠেকে যাওয়ার ভয় নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।


🏙️ শহরের মানুষ বলছেন—“এ যেন নতুন আলোর উৎসব!”

চন্দননগরের শিক্ষক অভিষেক ঘোষ বলেন,

“এত বছর ধরে ভাসানের দু’দিন কারেন্ট না থাকায় অসুবিধা হতো। এ বার সকাল থেকেই বিদ্যুৎ আছে, বেশ শান্তিতে দিন কাটছে।”

অন্যদিকে, বাসিন্দা কাকলি দত্ত জানান,

“আগে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে জলও বন্ধ হয়ে যেত। এখন আর সেই সমস্যা নেই। পুরসভার সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসনীয়।”


🚔 নিরাপত্তায় কঠোর নজরদারি

চন্দননগর কমিশনারেট জানিয়েছে, শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ৩,০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি পুজো কমিটির সঙ্গে থাকবে পুলিশের একটি দল। পাশাপাশি,

  • মহিলাদের নিরাপত্তায় বিশেষ পুলিশি টহল
  • ড্রোন নজরদারি ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ
  • অনলাইনে শোভাযাত্রার সরাসরি সম্প্রচার

🌊 গঙ্গার ঘাটে নিরাপদ বিসর্জন

চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরে মোট ১৪টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হবে। এর মধ্যে রানিঘাট সবচেয়ে ব্যস্ত। গঙ্গায় জাল ফেলে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। মেয়র রাম চক্রবর্তী জানিয়েছেন—

“বিদ্যুৎ ও জলের সমস্যা এ বছর আর হবে না। এই উদ্যোগ শহরের প্রতিটি গৃহস্থকে স্বস্তি দেবে।”


🔗 প্রাসঙ্গিক লিঙ্ক


🌟 উপসংহার

বছরের পর বছর লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে ডুবে থাকা চন্দননগর এবার সত্যিকারের আলোর শহর হয়ে উঠেছে। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে শুধু শহর নয়, মানুষের মনও আজ আলোয় ভরে উঠেছে। জগদ্ধাত্রীপুজোর এই নতুন অধ্যায় যেন প্রযুক্তি, ঐতিহ্য ও মানুষের আশার সুন্দর মেলবন্ধন।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *