‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ বিতর্কে আইনি ঝড়!
মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত ও নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, ছবির নাম ও বিষয়বস্তু নাকি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে লখনউয়ে এফআইআর দায়ের হয়েছে। হজরতগঞ্জ থানায় রুজু হওয়া এই মামলার পর অবশেষে মুখ খুললেন স্বয়ং মনোজ বাজপেয়ী।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ছবির ঘোষণা হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকের দাবি, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নামটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তৈরি, যা অপমানজনক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন উত্তরপ্রদেশ সরকার। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেই অনুযায়ী লখনউয়ের হজরতগঞ্জ থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়।
এই বিতর্কের মাঝেই জানা যায়, ছবির বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টেও মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী বিনীত জিন্দল। তাঁর বক্তব্য, ছবির শিরোনামই ব্রাহ্মণ সমাজের ভাবাবেগে আঘাত করছে। তাঁর আশঙ্কা, ছবির ভিতরে যদি ওই সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক বা হিংসাত্মক বক্তব্য থাকে, তা হলে ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই কারণেই তিনি ছবির মুক্তির আগে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।
‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ছবিতে মনোজ বাজপেয়ী অভিনয় করেছেন অজয় দীক্ষিত নামে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিকের চরিত্রে। তাঁর সঙ্গে এই ছবিতে রয়েছেন নুশরত ভরুচা, সাকিব সালিম, অক্ষয় ওবেরয়, দিব্যা দত্ত, শ্রদ্ধা দাস ও কিকু শরদা। ২০২৬ সালেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা এই ছবি বা সিরিজ়ের। তবে মুক্তির আগেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠেছে এর ভবিষ্যৎ নিয়েও।
সব বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মনোজ বাজপেয়ী। তিনি জানিয়েছেন, এই ছবির মাধ্যমে কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করার বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। মনোজের কথায়, “এক জন অভিনেতা হিসাবে আমার দায়িত্ব চরিত্র ও গল্পকে সৎ ভাবে পর্দায় তুলে ধরা। এই ছবির মাধ্যমে কোনও সম্প্রদায়কে ছোট করা বা অপমান করার চেষ্টা করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, নীরজ পাণ্ডে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল নির্মাতা। তাঁর পরিচালনায় সমাজের কঠিন ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলি বরাবরই যত্নের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
মনোজ আরও জানান, সাধারণ মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্মাতারা ইতিমধ্যেই ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ছবির সব প্রচারমূলক ছবি ও ভিডিয়ো সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিতর্ক যাতে আর না বাড়ে, সেই দিকেই তাঁদের এখন নজর।
সব মিলিয়ে, ছবি ঘোষণার পরেই যে ভাবে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা বলিউডে নতুন নয়। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত এবং নির্মাতাদের ব্যাখ্যার উপরই নির্ভর করছে ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর ভবিষ্যৎ।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই