গ্রিনল্যান্ড দখলের স্বপ্ন দেখছেন ট্রাম্প!
ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ বানানোর কথা বললেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, “আমার ধারণা এটা হবেই।” যদিও সরাসরি ‘দখল’ করার কথা বলেননি, তবে স্পষ্টভাবেই বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
এই মন্তব্যের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউটে এগেদে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, “অনেক হয়েছে!”
ট্রাম্পের পুরনো স্বপ্ন: গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই কানাডার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে এটি একটি স্বশাসিত অঞ্চল, যা আন্তর্জাতিকভাবে ডেনমার্কের অধীনে স্বীকৃত। তাই ডেনমার্ক সরাসরি এই দাবি খারিজ করে দেয়।
তবে ট্রাম্প এত সহজে হাল ছাড়েননি। কয়েক মাস আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “সারা বিশ্বের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার স্বার্থে আমেরিকার উচিত গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা গ্রহণ করা।” এই মন্তব্যের পর থেকেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
নেটো বৈঠকে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য
বৃহস্পতিবার নেটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি আবারও গ্রিনল্যান্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর মতে, “বিশ্বের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার স্বার্থে” গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অংশ হওয়া উচিত।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, নেটো এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে নেটোর সচিব মার্ক রুটে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। বরং তিনি বলেন, “মেরু অঞ্চলে ক্রমশ প্রভাব বাড়াচ্ছে রাশিয়া ও চিন।”
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউটে এগেদে সামাজিক মাধ্যমে এক বাক্যে ট্রাম্পকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, “অনেক হয়েছে!” এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই আমেরিকার অংশ হতে চায় না।
গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান
সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টে ট্রাম্প-বিরোধী দল ‘ডেমোক্র্যাটস পার্টি’ জয়লাভ করেছে। তবে ট্রাম্প মনে করছেন, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ তাঁর পরিকল্পনাকে সমর্থন করবে।
১০ মার্চ, সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ডের নাগরিকদের আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
ডেনমার্কের অবস্থান কী?
ডেনমার্ক স্পষ্ট করে বলেছে, তারা গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করবে না এবং কোনোভাবেই আমেরিকার দাবিকে মেনে নেবে না। কয়েক বছর আগে ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছিলেন, “এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর একটি ধারণা।”
তাহলে ট্রাম্প কি সত্যিই গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারবেন?
এটি খুবই অবাস্তব ও অসম্ভব একটি পরিকল্পনা। গ্রিনল্যান্ড একটি স্বশাসিত অঞ্চল এবং ডেনমার্কের সরকার কখনোই তাদের ছাড়বে না।
তবে ট্রাম্প যদি কোনোভাবে অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করে গ্রিনল্যান্ডের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চান, তাহলে ভবিষ্যতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড এই বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করে!
২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করলেন রোহিত, ফিটনেসে নজর দিচ্ছেন অভিষেক নায়ারের সাহায্যে