পান্তুয়া-ল্যাংচার ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত?
শহরের মিষ্টির দোকানে গিয়ে হয়তো এখনও রসগোল্লা পাওয়া যাবে, কিন্তু প্রিয় পান্তুয়া বা ল্যাংচা পাওয়া যাবে কি না—সে বিষয়ে এখনই নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না অনেক দোকানদার। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা শহরের মিষ্টির দোকান, ক্যাফে এবং রেস্তরাঁগুলির সামনে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দামে। ১৪.২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে কলকাতায় প্রায় ৯৩৯ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও প্রায় দুই হাজার টাকার কাছাকাছি। দাম বাড়ার পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করছেন—গ্যাসের জোগানও আগের মতো সহজে মিলছে না।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন ভাজা মিষ্টির ব্যবসায়ীরা। কারণ পান্তুয়া, কালোজাম, সরভাজা বা ছানার জিলিপির মতো মিষ্টি তৈরি করতে প্রয়োজন প্রচুর গ্যাস ও উচ্চ তাপমাত্রা।
শহরের জনপ্রিয় মিষ্টির প্রতিষ্ঠান Balaram Mullick & Radharaman Mullick–এর কর্ণধার সুদীপ মল্লিক জানালেন, আপাতত বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্যাস জোগাড় করে দিনের অর্ডার মেটানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আগামী দিনে কী হবে তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি। তাঁর কথায়, গ্যাস না পেলে মিষ্টি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে K.C. Das–এর কর্ণধার ধীমান দাস কিছুটা আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর মতে, ছানার মিষ্টি—বিশেষ করে রসগোল্লা—তৈরিতে খুব বড় সমস্যা হচ্ছে না, কারণ এগুলোর অনেকটাই স্টিম বয়লারের মাধ্যমে তৈরি করা যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে ভাজা মিষ্টি নিয়ে। যদি গ্যাসের সরবরাহ আরও কমে যায়, তা হলে পান্তুয়া বা কালোজামের মতো মিষ্টির উৎপাদন সাময়িক ভাবে বন্ধ করতে হতে পারে।
অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী সন্দেশের দোকান Girish Chandra Dey & Nakur Chandra Nandy–এর কর্ণধার পার্থ নন্দী জানিয়েছেন, তাঁদের দোকানে আপাতত পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল। কারণ তাঁদের প্রধান পণ্য সন্দেশ, যার জন্য গ্যাসের ব্যবহার তুলনামূলক কম। তবে তাঁরাও জানাচ্ছেন—স্টকে থাকা গ্যাস দিয়ে হয়তো কয়েক দিন কাজ চলবে, তার পরে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শুধু মিষ্টির দোকান নয়, শহরের ক্যাফে ও রেস্তরাঁগুলিও চিন্তায়। বড় রান্নাঘরে দ্রুত রান্না এবং পরিষেবা দেওয়ার জন্য এলপিজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক রেস্তরাঁ মালিক বলছেন, গ্যাসের জোগান যদি কমতে থাকে, তাহলে বড় মেনু চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে অনেক জায়গায় মেনুতে কাটছাঁট করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
কিছু ক্যাফে আবার বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন ওভেনের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তবে তাতেও খরচ কম নয়—একেকটি বাণিজ্যিক ইন্ডাকশন কিনতে কয়েক দশ হাজার টাকা খরচ হতে পারে, আর বিদ্যুতের বিলও বাড়বে।
বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনের প্রভাব যে কত দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছে যায়, তারই উদাহরণ এই পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারেও।
ফলে আপাতত কোনও মতে ব্যবসা চালালেও সামনে কী অপেক্ষা করছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন মিষ্টির দোকান, ক্যাফে এবং রেস্তরাঁ মালিকেরা। শহরের খাদ্যরসিকদেরও তাই প্রশ্ন—আগামী দিনে কি প্রিয় মিষ্টি বা খাবার সহজে পাওয়া যাবে, নাকি কিছু দিনের জন্য সেগুলোও হয়ে উঠবে দুর্লভ?
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?