গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ মন্তব্যে বিতর্কে প্রিয়ঙ্কা!
প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের সদস্য ও আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর ভি কামকোটিকে উদ্দেশ করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লোকসভায় প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধী সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময় প্রিয়ঙ্কা ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ মন্তব্য করেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, বিজেপি এবং একাংশ শিক্ষাবিদের দাবি, মন্তব্যটি কামকোটিকেই উদ্দেশ করে করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার ২১৫ জন শিক্ষাবিদ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে প্রিয়ঙ্কার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও গবেষক বা শিক্ষাবিদের মতের সঙ্গে মতভেদ থাকলে তা যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করা উচিত। ব্যক্তিগত তকমা দিয়ে আক্রমণ করা বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও সুস্থ গণতান্ত্রিক বিতর্কের পরিপন্থী।
কেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ভি কামকোটি?
ভি কামকোটি একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ। তিনি আইআইটি মাদ্রাজ থেকেই স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০২২ সালে আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর হন। কম্পিউটার আর্কিটেকচার, তথ্য সুরক্ষা এবং ভিএলএসআই ডিজাইনে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ)-র সংস্কারের জন্য যে টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেখানে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকণির নেতৃত্বে সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামকোটি। কমিটিতে আরও রয়েছেন প্রাক্তন আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকা, প্রাক্তন শিক্ষা সচিব অনীতা করবাল, প্রযুক্তিবিদ অমৃতলাল মীণা এবং ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস. সোমনাথ।
শিক্ষাবিদদের খোলা চিঠিতে কী বলা হয়েছে?
খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ২১৫ জন শিক্ষাবিদ লিখেছেন, কোনও গবেষকের বক্তব্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে বিতর্ক না করে তাঁকে একটি বিশেষ তকমা দিয়ে খারিজ করা অনভিপ্রেত। তাঁদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য সংবিধানে উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে তোলার চেতনাকেই দুর্বল করতে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্য বা ব্যঙ্গের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, একজন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাবিদকে এভাবে আক্রমণ করা শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়, দেশের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিও নেতিবাচক বার্তা দেয়।
প্রশ্নফাঁস রোধে টাস্কফোর্স
দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর এনটিএ-র কার্যপ্রণালী সংস্কারের জন্য এই উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে কেন্দ্র। কমিটির দায়িত্ব পরীক্ষা পরিচালনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর সুপারিশ করা।
প্রিয়ঙ্কার মন্তব্য এবং তার জেরে শিক্ষাবিদদের প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক ও একাডেমিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পক্ষ থেকে এখনও কোনও অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?