ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেল কলকাতার বড় পুজোর সমীকরণ!
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে কলকাতার একাধিক বড় দুর্গাপুজোর পরিচালনাতেও বড়সড় বদল এসেছে। যে পুজোগুলির সঙ্গে এত দিন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছিল, এ বার সেখানেই দেখা যাচ্ছে নতুন মুখ। কোথাও পুরনো কর্মকর্তারা জেলে বা আড়ালে, কোথাও আবার নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দায়িত্ব নিয়েছে।
শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব
সুজিত বসু বর্তমানে জেলে থাকায় শ্রীভূমির পুজোর দায়িত্বে এ বার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ নতুন নেতৃত্ব। গত কয়েক বছর ধরে বিপুল ভিড় ও জাঁকজমকের জন্য পরিচিত এই পুজোয় এ বারও বড় আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। জয়পুরের হাওয়া মহলের আদলে মণ্ডপ এবং সাবেকি প্রতিমা থাকছে। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সুরুচি সঙ্ঘ
অরূপ বিশ্বাস এ বার সরাসরি পুজোর সঙ্গে থাকছেন না। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্বে এসেছেন বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। এত দিন এলআইসির জমিতে পুজো হলেও জমি ফেরত চাওয়ায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। খুঁটিপুজো হয়ে গেলেও মণ্ডপ তৈরির কাজ এখনও ধীরগতিতে।
চেতলা অগ্রণী
চেতলা অগ্রণীতে পরিস্থিতি তুলনামূলক আলাদা। ফিরহাদ হাকিম ভোটে জয়ী হওয়ায় এবং পুজোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক থাকায় নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন হয়নি। বিজেপির কিছু নেতা-কর্মী কমিটিতে এলেও পুজোর নিয়ন্ত্রণ এখনও পুরনো নেতৃত্বের হাতেই রয়েছে। তবে আগের তুলনায় জাঁকজমক কিছুটা কমতে পারে।
হাতিবাগান সর্বজনীন
পালাবদলের সবচেয়ে স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে হাতিবাগান সর্বজনীনে। অতীন ঘোষ ও শাশ্বত বসুর নাম এ বার ব্যানার থেকে সরে গিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। রাস্তা বন্ধ করে পুজো এবং বাজেট—দুই বিষয়েই এ বার বাড়তি নজর রয়েছে।
ত্রিধারা সম্মিলনী
দেবাশিস কুমারের পুজো ত্রিধারাতেও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি পুজোর দায়িত্ব ধরে রেখেছেন। বিজেপির তরফে কোনও হস্তক্ষেপ না করার বার্তা আসায় আপাতত পুরনো ব্যবস্থাই বজায় রয়েছে। তবে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ দেরিতে।
টালা প্রত্যয়
টালা প্রত্যয়ে বদল আরও বড়। পুরনো কমিটি কার্যত সরে গিয়ে নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে। শিল্পীও বদলেছেন। পাশাপাশি পুজোর মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা। আর্থিক হিসাব নিয়েও পুরনো ও নতুন কমিটির মধ্যে টানাপড়েন রয়েছে।
চোরবাগান সর্বজনীন
চোরবাগানে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব সবচেয়ে নাটকীয়। পুরনো নেতৃত্ব সরে গিয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব পুজোর দায়িত্ব নিয়েছে। দ্বিতীয় বার খুঁটিপুজো হয়েছে, বদলেছে থিম শিল্পীও। তবে প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা দেনা নতুন কমিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
হিন্দুস্থান পার্ক
হিন্দুস্থান পার্কে এখনও পুরনো ব্যবস্থার ধারাই বজায় রয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও পুজোয় সরাসরি কোনও চাপ আসেনি বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। তবে অগস্টের মাঝামাঝি এসে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় প্রস্তুতির গতি নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
সব মিলিয়ে, এ বারের দুর্গাপুজো শুধু থিম, মণ্ডপ বা প্রতিমার পরিবর্তনের বছর নয়—কলকাতার একাধিক বড় পুজোয় বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার কাঠামোও। কোথাও পুরনো নেতৃত্বের প্রভাব কমেছে, কোথাও নতুন রাজনৈতিক মুখ উঠে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কাছে আসল পরীক্ষা হবে পুজোর আয়োজন, নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।