কোমা থেকে জেগে ৬৮-র বৃদ্ধ
১৯৮০ সালের ২০ মার্চ, ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড অপারেশন অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন লুসিয়ানো ডি’আদামো। আর তারপর থেকেই তাঁর স্মৃতি খালি। ভয়ঙ্কর একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘ ৩৯ বছর পর, ২০১৯ সালে কোমা থেকে জেগে ওঠেন তিনি। সেই সময় থেকে ৬৮ বছর বয়সে এসে মনে করেন, তার বয়স এখনও ২৪! সমস্ত কিছু নতুন করে শুরু করার প্রক্রিয়ায় ভেতরে ভেতরে ঘটে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা।
দুর্ঘটনার আগে লুসিয়ানো ছিলেন তরুণ, আকর্ষণীয় এবং কর্মজীবনে সফল। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর স্মৃতির ঝুলি পুরোপুরি শূন্য হয়ে যায়। ১৯৮০ সালের পরে তাঁর জীবনের সবকিছু যেন অদৃশ্য হয়ে যায়। কোমা থেকে জেগে উঠার পর, লুসিয়ানো বুঝতে পারেন না যে এতটা সময় কেটে গেছে। ৬৮ বছর বয়সে তাঁর জন্য বিশ্ব একেবারে নতুন!
প্রথমবার যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা দেখেন, তখন নিজের বয়সের পরিবর্তন মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। সাদা চুল, বলিরেখায় ভরা মুখ—এই বৃদ্ধ চেহারার সঙ্গে তাঁর ২৪ বছরের তরতাজা যুবকের মন খাপ খায়নি। এমনকি হাসপাতালে নিজের স্ত্রীকে দেখে তিনি মানতেই পারেননি যে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্মৃতিতে আটকে রয়েছে ১৯ বছরের প্রেমিকার ছবি, যাকে তিনি ৩৯ বছর আগে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
তবে সবচেয়ে বেশি অবাক করেন লুসিয়ানো যখন মোবাইল ফোন দেখে। ১৯৮০ সালে যখন তিনি দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন, তখন মোবাইল বা জিপিএস কল্পনা করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন সবার হাতে মোবাইল ফোন, যা দেখে তিনি হতভম্ব। এসব দেখে তিনি আবার নতুন করে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমাজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন।
স্মৃতির বিভ্রান্তি যতই থাকুক, সামাজিক রীতিনীতি শেখানোর ক্ষেত্রে সাহায্য পেয়েছেন ছোটদের কাছ থেকে। তাঁর চিকিৎসকরা মনে করেন, একজন বৃদ্ধ মানুষ নতুন করে শিখতে গেলে, শিশুরা খুব ভালো শিক্ষক হতে পারে। আর তাই তিনি প্রায়ই শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করতে শুরু করেন, যাতে নতুন করে জীবনের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারেন।
এমনকি মাঝে মাঝে বিমানে চড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তাঁর স্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার আগে তাঁরা দুজনে প্যারিসে বিমানযাত্রা করেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে, লুসিয়ানো একটি স্কুলে কাজ করছেন, যেখানে তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন জীবনবোধের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন।
এখনো তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অজানা রহস্য, দুর্ঘটনার পর কী ঘটেছিল। তবে অনুমান করা হয়, তাঁকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় চালক। তার পর থেকে গাড়ির চালক আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ লুসিয়ানো এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি দুর্ঘটনার জন্য।
বর্তমানে তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে সাহায্য নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করছেন যেন লুসিয়ানো ৪০ বছরের এই ফাঁক কাটিয়ে উঠতে পারেন এবং পুরোপুরি স্মৃতির শূন্যতা দূর করতে পারেন।