মার্কিন ধনকুবেরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ!
সাড়ে ২৭ কোটি টাকা নগদ, সঙ্গে প্রায় ১৪ কোটি টাকার বাড়ি, বিলাসবহুল ভ্রমণ আর স্বচ্ছন্দ জীবন—এই সবের বিনিময়ে এক বিবাহিত তরুণীকে সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব! এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে এখন তোলপাড় আমেরিকার রিয়েল এস্টেট মহল। অভিযোগের কেন্দ্রে এক নামী রিয়েল ব্রোকারেজ সংস্থার শীর্ষকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই তরুণীর স্বামী, দাবি করেছেন প্রায় ৫০ লক্ষ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫ কোটিরও বেশি ক্ষতিপূরণ।
সংবাদমাধ্যম ‘ডেলি মেল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাকারীর নাম মাইকেল স্টেকলিং। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্ত্রী পেজ স্টেকলিং যখন মার্কিন রিয়েল ব্রোকারেজ সংস্থায় কাজ করছিলেন, তখন সংস্থার সিইও তামির পোলেগ তাঁকে একের পর এক অশালীন ও লোভনীয় প্রস্তাব দেন। পেজ বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জননী—এ কথা জানা সত্ত্বেও তামির তাঁকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
মাইকেলের দাবি, শুধু মুখের কথা নয়—তামির নাকি পেজকে সংস্থার শেয়ার, মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ, রিয়েল এস্টেট চুক্তি এবং বিলাসবহুল ভ্রমণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রলোভনের ফলেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে মাইকেল ও পেজের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তামির পেজকে একটি লিখিত প্রস্তাব দেন। তাতে উটাহের পার্ক সিটিতে প্রায় ১৫ লক্ষ ডলারের একটি বাড়ি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে শর্ত একটাই—পেজকে তাঁর স্বামী ও সংসার ছেড়ে তামিরের সঙ্গে থাকতে হবে। তবেই তিনি পেজের সব আর্থিক ও ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ করবেন।
অভিযোগ আরও গুরুতর। বলা হয়েছে, পেজকে নিজের কাছে রাখতে তামির প্রায় ৬ লক্ষ ডলারের সংস্থার স্টক বিক্রি করে দেন। শুধু তাই নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মায়ামিতে নিজের ও পেজের জন্য একটি বিলাসবহুল হোটেল বুক করেছিলেন তিনি। ফেব্রুয়ারির শুরুতে পেজকে একটি ইমেল পাঠানো হয়, যেখানে ১৫ লক্ষ ডলার কী ভাবে ও কবে তাঁকে দেওয়া হবে, তার বিস্তারিত বিবরণ ছিল।
এই সব অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। পেজ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত কারণেই আমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।” অন্য দিকে, তামির পোলেগ আদালতে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পেজ প্রায়ই নিজের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের কথা তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন, এর বাইরে কিছুই হয়নি।
এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে সবাই। কোটি টাকার প্রলোভন, ক্ষমতার অপব্যবহার আর ভাঙা সংসারের এই মামলার শেষ পরিণতি কী হয়, তা নিয়েই কৌতূহল তুঙ্গে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা