কেরলে আটকে যুদ্ধবিমান!
২২ দিন কেটে গিয়েছে। এখনও কেরলের তিরুঅনন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কোণে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও দামি যুদ্ধবিমান F-35B Lightning II। গত ১৫ জুন জ্বালানি ফুরিয়ে পড়ায় ব্রিটেনের রয়্যাল নেভির এই স্টেল্থ ফাইটার জেটটি তড়িঘড়ি অবতরণ করেছিল কেরলে। এরপরেই ধরা পড়ে যান্ত্রিক ত্রুটি। একাধিকবার ব্রিটেন থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো হলেও সমাধান মেলেনি। এখন প্রশ্ন, কী ভাবে ফিরবে যুদ্ধবিমানটি—আকাশপথে নিজের শক্তিতে নাকি অন্য বিমানের ‘পেটে’ চাপিয়ে?
রবিবার ফের ব্রিটেন থেকে এক বিশেষজ্ঞ দল এসে পৌঁছেছে তিরুঅনন্তপুরমে। এবার তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে—জেটটির ত্রুটি কি এতটাই গুরুতর যে সেটিকে সি-১৭ গ্লোবমাস্টারের মতো বিশাল সামরিক পরিবহণ বিমানের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে? নাকি স্থানীয় মেরামতির পর নিজে থেকেই আকাশে ওড়ানো যাবে?
সূত্রের খবর, F-35B যুদ্ধবিমানটি পরীক্ষার জন্য আনা হয়েছিল ভারত মহাসাগর অঞ্চলে। কিন্তু মাঝপথে জ্বালানি কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিরুঅনন্তপুরমে অবতরণ করে। তৎক্ষণাৎ বিমানটিকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। যুদ্ধবিমানটির প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় কোনও ফাঁক রাখতে চায়নি ব্রিটেন।
বিশ্বের সর্বাধুনিক ফাইটার জেটগুলির তালিকায় অন্যতম এই F-35B Lightning II। এটি এমন এক যুদ্ধবিমান যা উল্লম্বভাবে উঠতে ও নামতে পারে—যার ফলে এটি রানওয়ে ছাড়াই ছোট জায়গা থেকে কাজ চালাতে সক্ষম। মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিন এই বিমান তৈরি করে, যা ব্যবহার করে থাকে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং নেটো জোটের একাধিক দেশ। যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ‘স্টেল্থ’ ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত, অর্থাৎ রাডারে ধরা পড়ে না বললেই চলে।
তবে এত উন্নত প্রযুক্তির একটি বিমান যদি বারবার চেষ্টার পরেও সচল না হয়, তাহলে সেটিকে দেশে ফেরত পাঠানো ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা দপ্তর এরইমধ্যে সি-১৭ বিমানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই ধরনের বিশাল সামরিক পরিবহণ বিমান একটি যুদ্ধবিমানকে গোটা রূপেই বয়ে নিয়ে যেতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ব্রিটেনের পক্ষে যথেষ্ট অস্বস্তিকর। একদিকে যুদ্ধবিমানটির প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অন্যদিকে তার এতদিন ধরে ভারতে পড়ে থাকা—দুটোই কূটনৈতিক এবং সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্পর্শকাতর। ভারতও বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে সামলাচ্ছে। বিমানবন্দরে বিমানটির চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা জারি রয়েছে।
ফলে এখন নজর রয়েছে ব্রিটেন থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ার দলের রিপোর্টের দিকে। তারা যদি জানায় বিমানটিকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তাহলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সি-১৭-এ চাপিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে যুদ্ধবিমানটি। আর যদি কোনওভাবে জেটটি সচল করা যায়, তবে খুব শিগগিরই দক্ষিণ ভারতের আকাশে দেখা যেতে পারে এফ-৩৫-এর ঝলক, ফেরা শুরু হবে নিজের ডানায় ভর করে।
গলওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সলমন খান! ভাইজানের নতুন ছবির পেছনে রয়েছে ভারতের সাহসী ইতিহাস