কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে গরু চরছে
বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্যের ক্রীড়া বিভাগের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে তুমুল বিতর্ক দেখা যায়। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন যে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকা স্টেডিয়ামে অবহেলার কারণে গরু চরে বেড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি শঙ্কর ঘোষকেও আক্রমণ করে বলেন, ‘‘রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুলে উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বার্থে কেন্দ্রের কাছে বলুন।’’
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জলপাইগুড়ির বিশ্ব বাংলা স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এই স্টেডিয়ামটি রাজ্য সরকার ১১০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করে ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সাই)-র হাতে তুলে দিয়েছিল। সেখানে সাতটি ক্রীড়া বিভাগের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের অবহেলার কারণে আজ সেখানে গরু চরছে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, এই বিষয়ে ২০১৭ থেকে চারবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ও ২৭ নভেম্বর কেন্দ্রকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন
অরূপ বিশ্বাস কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরতে গিয়ে রাজ্যের সাফল্যের উদাহরণ দেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে ১৮টি নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে এবং ২৭টি সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সল্টলেক স্টেডিয়াম, পুরুলিয়ার ছ’টি হকি স্টেডিয়াম, উত্তর ২৪ পরগনার একটি হকি স্টেডিয়াম এবং বারাসাতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ। এছাড়া রাজ্যজুড়ে ৪২৪টি খেলার মাঠ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের উদ্দেশে বলেন, ‘‘রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লাভ নেই। আপনারা যদি সত্যিই উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে আগ্রহী হন, তবে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানান। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’’
বিজেপি-র পাল্টা আক্রমণ
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্যের জবাব দিতে ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক ডিন্ডা বলেন, ‘‘মন্ত্রী দাবি করেছেন কেন্দ্র কোনও টাকা দেয়নি। কিন্তু আমি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার তাতে কোনও জবাব দেয়নি। সঠিক সময়ে সব তথ্য প্রকাশ্যে আনব।’’
বিতর্কের প্রেক্ষাপট
বিশ্ব বাংলা স্টেডিয়ামের বর্তমান অবস্থা নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তা নতুন কিছু নয়। জলপাইগুড়ির এই স্টেডিয়ামে কেন্দ্রের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং রাজ্যের অনুযোগের মধ্যে একটি স্পষ্ট যোগাযোগহীনতা রয়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে।
রাজ্য-কেন্দ্র টানাপড়েন
রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রগতির অভাব স্পষ্ট। রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রের ব্যর্থতা তুলে ধরছেন, সেখানে বিজেপি বিধায়ক কেন্দ্রের তহবিল প্রদানের অভিযোগ করছেন। ফলে, প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
উপসংহার
বিধানসভায় এ দিনের বিতর্ক শুধু ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়েই নয়, বরং রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের অস্থিরতার একটি প্রতিফলন। স্টেডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের অবহেলা এবং পরস্পরের ওপর দোষারোপ রাজ্যের খেলাধূলার ভবিষ্যতের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই সমন্বয় রেখে কাজ করাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে।