কীভাবে চলত প্রতারণা? ব্যাঙ্ক দুর্নীতি মামলায় ইডির হানা, আটক কনকাস্ট স্টিলের কর্ণধার

কীভাবে চলত প্রতারণা ইডির? ব্যাংক দুর্নীতি মামলায় এক বড়সড় অভিযানে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কলকাতা এবং শহরতলির একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে তদন্তকারীরা। ইডি…

December 18, 2024
1 min read

কীভাবে চলত প্রতারণা ইডির?

ব্যাংক দুর্নীতি মামলায় এক বড়সড় অভিযানে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কলকাতা এবং শহরতলির একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে তদন্তকারীরা। ইডি এদিন কনকাস্ট স্টিলের কর্ণধার সঞ্জয় সুরেকাকে আটক করেছে, পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে একটি বৃহৎ ব্যাংক প্রতারণার জাল ভাঙার চেষ্টা চলছে, যা লক্ষাধিক টাকার অবৈধ লেনদেন এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত।

এদিনের অভিযানে শহরের অভিজাত এলাকা বালিগঞ্জ থেকে শুরু করে ঘুসুড়ি, বৈদ্যবাটি, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, বেলুড়সহ ছয়টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। সকাল ৭টা থেকে সন্ধে পর্যন্ত, ইডি আধিকারিকরা একটানা অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সন্দেহভাজন স্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করেন। ইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক SBI-এর পক্ষ থেকে ৩,২৮০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, যার তদন্তেই এই অভিযান শুরু হয়।

সঞ্জয় সুরেকার বাড়িতে অভিযান

এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিলেন কনকাস্ট স্টিলের কর্ণধার সঞ্জয় সুরেকা। ইডি তদন্তকারীরা বালিগঞ্জের ম্যান্ডেভিলা গার্ডেনের ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দেন এবং দীর্ঘ তল্লাশি চালান। সুরেকা ছাড়াও, তার এক ব্যবসায়ী সঙ্গী কৈলাস সরফের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। একইসঙ্গে, নিউ আলিপুরে প্লাস্টিক ব্যবসায়ী অজয় পোদ্দারের বাড়িতেও ইডি আধিকারিকরা পৌঁছান এবং ব্যাপক তল্লাশি চালান।

তল্লাশির পর, একাধিক অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রমাণিত করছে যে, এসব লেনদেন অবৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। পাশাপাশি, দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সঞ্জয় গুপ্ত নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটেও অভিযান চলে। এখানেও সন্দেহভাজন লেনদেন এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।

ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে টাকা তছরুপ

ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি একাধিক ভুয়ো কোম্পানি খুলে টাকা তছরুপ করার কাজ করত। ব্যাঙ্ক থেকে বিশাল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়ে, সেল কোম্পানির মাধ্যমে তা বিদেশে পাচার করা হত। এইভাবে, চক্রটি ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। এদিকে, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইডি ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ হাতে পেয়েছে, যা এই জালিয়াতি চক্রের অন্তর্নিহিত কাজকর্মের ছবি স্পষ্ট করে তুলছে।

এছাড়াও, ইডি তদন্ত করছে—এই বৃহত্তর ব্যাংক প্রতারণা কাণ্ডের পিছনে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসূত্র রয়েছে কিনা। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ধরনের বিশাল প্রতারণার ঘটনা একা একটি ছোট গ্রুপের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক শক্তির সমর্থন থাকতে পারে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের প্রতারণা কি একেবারে নির্বিঘ্নে চলছিল, নাকি এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? ইডি সূত্রে খবর, তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই চক্রের আরো বড় অংশ খুলে দিতে পারে।

এই ধরনের ব্যাংক প্রতারণা শুধুমাত্র দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এটি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমন পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি একযোগে কাজ করে প্রতারণার এই জাল ভাঙতে পেরেছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইডি-র এই অভিযান আরও একটি উদাহরণ যে, দেশব্যাপী দুর্নীতি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থা গুলি কোনও আপস করবে না। এ ধরনের অভিযান যদি নিয়মিত হয়, তাহলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা যাবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *