পেপটিক আলসারের উপসর্গ
খাদ্যপ্রীতির কারণে আমরা নানা ধরনের খাবার খাই। তবে যদি দেখা যায় খাবার সামনে এলেই অরুচি, খাওয়ার পর পরেই বুক জ্বালা, পেটে ব্যথা বা গ্যাস-অম্বলের সমস্যা হচ্ছে, তাহলে এটি অবহেলা করার বিষয় নয়। এমন উপসর্গগুলো পেপটিক আলসারের লক্ষণ হতে পারে। পেপটিক আলসার হলো পরিপাকতন্ত্রে তৈরি হওয়া এক ধরনের ক্ষত, যা অবহেলা করলে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপন্ন হওয়া কিংবা এইচ. পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ পেপটিক আলসারের অন্যতম কারণ। অনেকেরই ধারণা ঝাল, তেল বা মশলাদার খাবারই আলসার তৈরি করে, কিন্তু এটি পুরোপুরি সঠিক নয়। যদিও এই খাবারগুলো আলসারের তীব্রতা বাড়াতে পারে, মূলত ধূমপান, মদ্যপান এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ খাওয়া আলসার তৈরির আরেকটি বড় কারণ।
তাহলে কীভাবে বুঝবেন পেপটিক আলসারের লক্ষণ? নিচে এই রোগের পাঁচটি প্রধান লক্ষণ উল্লেখ করা হলো।
পেপটিক আলসারের ৫টি উপসর্গ
১. খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেটে ব্যথা
খাবার পেটে পড়ার পর পরই যদি ব্যথা শুরু হয়, তাহলে এটি আলসারের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় খালি পেটেও অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়। এই ধরনের সমস্যাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
২. খাবার খাওয়ার পর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
খাবার খাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা পরেও যদি পেটে ব্যথা হয় এবং এটি বারবার ঘটে, তাহলে তা পেপটিক আলসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. বুক জ্বালা
অনেকেই বুক জ্বালাকে সাধারণ অম্বলের সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। তবে ঘন ঘন বুক জ্বালা হলে এটি আলসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৪. গা গোলানো ও বমি-বমি ভাব
সারা দিন গা গোলানো কিংবা বমি-বমি ভাব হলে তা অবহেলা করবেন না। এটি পেপটিক আলসারের অন্যতম সাধারণ উপসর্গ। পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
৫. রক্তক্ষরণ
পরিপাকতন্ত্রে আলসারের কারণে খাদ্যনালিতে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ফলে বমি বা মলের সঙ্গে রক্ত দেখা যায়। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। এই ধরনের জটিলতা জীবনঘাতী হতে পারে।
কীভাবে আলসার থেকে মুক্তি পাবেন?
প্রথমত, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। ঝাল, তেল, ও মশলাদার খাবার পরিহার করুন। ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। নিয়মিত ও সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
দ্বিতীয়ত, ব্যথানাশক ওষুধ বা যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা এড়াতে হবে।
তৃতীয়ত, উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পেপটিক আলসার কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। এটি সময়মতো চিকিৎসা না করলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।