ঐশ্বর্যর ম্যাজিক!
কান চলচ্চিত্র উৎসবের দ্বিতীয় দিন আবারও লাল গালিচায় দেখা গেল ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনকে। তবে এ বার তাঁর রূপে এল এক অন্য ছন্দ, এক নতুন মোড়। প্রথম দিন সাদা বেনারসি শাড়িতে সিঁথিতে সিঁদুর পরে যেখানে ঐশ্বর্যার ভারতীয় ঐতিহ্যের গন্ধ ম ম করছিল, দ্বিতীয় দিন তিনি মুগ্ধ করলেন ইউরোপিয়ান ধাঁচের এক সাহসী, স্মরণীয় রূপে।
বৃহস্পতিবার রাতে কান ফ্রান্সের লাল গালিচা যেন রূপকথার মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। ঐশ্বর্যার পরনে ছিল গাঢ় কালো ভেলভেট গাউন, যার ডিজাইন করেছিলেন ফ্যাশন দুনিয়ার খ্যাতনামা গৌরব গুপ্ত। এই একই ডিজাইনারের পোশাকেই এ বছর কানে পা রেখেছেন হলিউড অভিনেত্রী হ্যাল বেরি।
তবে হ্যালের আধুনিকতার ছোঁয়ার গাউনের থেকে একেবারেই আলাদা ছিল ঐশ্বর্যার গ্ল্যামার। তাঁর গাউনে ছিল পুরনো হলিউডি আভিজাত্য— যেমনটা ষাটের দশকের নায়িকারা পরতেন— আর সঙ্গে ছিল একখানি সিলভার স্টোল, যেটি যেন শরীর ছাড়িয়ে মাটিতে গড়িয়ে এক অদ্ভুত নাটক তৈরি করছিল।

ঐশ্বর্যার এই কালো গাউন দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল যেন রাতের নিস্তব্ধ আকাশের মাঝে একটি জীবন্ত ‘নক্ষত্রপুঞ্জ’ হেঁটে চলেছে। ভেলভেট কাপড়ের উপর সিকুইনের জ্বলজ্বলে কাজ সেই বিভ্রমটাই তৈরি করেছিল— যেন তারাগুলো গাউনের বুকেই থিতু হয়ে আছে।
সাজগোজেও ছিল এক ঝলমলে আবেগ। ঠোঁটে টকটকে লাল লিপস্টিক, চোখে মোহময় মেকআপ, খোলা কাঁধের উপর দিয়ে পিঠ ছুঁয়ে ঝরে পড়া ঢেউ খেলানো বাদামি চুল। তবে বিশেষভাবে নজর কাড়ল— তাঁর সিঁথিতে এ দিন সিঁদুর ছিল না। একেবারে ভিন্ন এক ঐশ্বর্য।
ঐশ্বর্যর এ দিনের সাজ ছিল নিখাদ আন্তর্জাতিক, কিন্তু তাঁর সঙ্গে ছিল ভারতীয় ঐতিহ্যেরও সূক্ষ্ম ছোঁয়া। সেই স্টোলটি ছিল আসলে বেনারসি ব্রোকেড, ভারী বুনটের কাজ করা। পশ্চিম আর পূর্বের এমন নিখুঁত মেলবন্ধন খুব কম নায়িকাই এ ভাবে করে উঠতে পারেন।
প্রতি বছরের মতোই এ বারও ঐশ্বর্যকে কানে দু’বার লাল গালিচায় হাঁটতে দেখা গেল। আর প্রতি বছর যেমন, এ বারও তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিল মেয়ে আরাধ্যা। মায়ের হাত ধরে কানের ভেন্যুতে প্রবেশ করল সে। ঐশ্বর্য যতটা আলোকিত করেছিলেন ফ্যাশন দুনিয়াকে, ঠিক ততটাই মায়া ছড়াল মা-মেয়ের বন্ধন।
ঐশ্বর্যার প্রতিটি লুক নিয়ে দেশ-বিদেশে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ বলছেন ‘গ্ল্যামার গডেস’, কেউ বলছেন ‘ব্ল্যাক বিউটি’। কিন্তু সবার মুখে একটাই কথা— কানের মঞ্চে ঐশ্বর্যা মানেই আলাদা এক অধ্যায়।
বার্লি আর চিয়ার জল: কিডনির যত্নে সুস্বাদু ওজন কমানোর নয়া উপায়