কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে সাউথ কলকাতা ল কলেজে কড়া পদক্ষেপ!
কসবার গণধর্ষণ কাণ্ডের জেরে কড়া সিদ্ধান্ত নিল সাউথ কলকাতা ল কলেজ। ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কলেজ পরিচালন সমিতি মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেয়—অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে স্থায়ীভাবে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার মূল অভিযুক্ত এম-কে অস্থায়ী শিক্ষাকর্মীর পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজ জানিয়ে দিয়েছে, এই অভিযুক্তদের যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও কলেজে ভর্তি হতে না দেওয়া হয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা উচ্চ শিক্ষা দফতরে সুপারিশ করবে।
বৈঠকে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি ও তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব, কলেজ অধ্যক্ষা নয়না চট্টোপাধ্যায় এবং অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মূল অভিযুক্ত যেহেতু অস্থায়ী পদে নিযুক্ত ছিলেন, তাই তাঁকে দেওয়া সামগ্রিক বেতনও কলেজকে ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশি অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি শিক্ষাকর্মীর পদে বহাল ছিলেন? এই বিষয়ে পরিচালন সমিতির এক সদস্য হরিপদ বণিক জানান, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেই জানানো হয়েছিল পুলিশের কাছে, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
কলেজ আরও জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর পরিবার চাইলে তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবে কর্তৃপক্ষ। সিসিটিভি ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নতুন করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেহেতু ঘটনার সময় পুরনো সিসিটিভিগুলোর কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, তাই সেগুলির দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে শোকজ করা হয়েছে।
এছাড়াও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রদবদল আনার সিদ্ধান্তও হয়েছে বৈঠকে। এবার থেকে পুরুষ নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি মহিলা নিরাপত্তারক্ষীকেও নিয়োগ করা হবে। নিরাপত্তা সংস্থাকেও কার্যকারিতার প্রশ্নে শোকজ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কলেজের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। সবুজ সংকেত মিললেই সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত ক্লাস চালু করা হবে, তবে সেক্ষেত্রে শুধু পরিচয়পত্র থাকা ছাত্রছাত্রীরাই কলেজে প্রবেশাধিকার পাবেন।
কলেজে এতদিন যে ‘ইন্টারনাল কমপ্লেন কমিটি’ ছিল, সেটি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল বলে স্বীকার করেছে পরিচালন সমিতি। সেই কমিটিকে নতুন করে গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলেজের পরিধি থেকে বহিরাগতদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্য দিকে, এই ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা বলেন, “আমরা প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করেছি। সমস্ত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার জেরে শুধু অভিযুক্তদের শাস্তিই নয়, গোটা কলেজ কাঠামোতেও আনা হচ্ছে বড় ধরনের সংস্কার। কলেজ কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা—এই ধরনের ঘটনার কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না।
চাইলে আমি এর জন্য একটি নিউজ ভিডিও স্ক্রিপ্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন তৈরি করে দিতে পারি।
নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি স্থগিত, ট্রাম্পের সমর্থনের ছায়া কি পড়ল আদালতের সিদ্ধান্তে?