কসবায় আত্মহত্যার রহস্য: মামা-মামির বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ

কসবায় আত্মহত্যার রহস্য! কসবায় সন্তানসহ আত্মহত্যা করা দম্পতির ঘটনায় পুলিশ তাদের মামা-মামিকে গ্রেফতার করেছে। আদালত তাঁদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রদীপকুমার…

March 6, 2025
1 min read

কসবায় আত্মহত্যার রহস্য!

কসবায় সন্তানসহ আত্মহত্যা করা দম্পতির ঘটনায় পুলিশ তাদের মামা-মামিকে গ্রেফতার করেছে। আদালত তাঁদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রদীপকুমার ঘোষাল ও নীলিমা ঘোষাল। তাঁদের দাবি, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং সন্তানের অসুস্থতাই এই দুঃখজনক পরিণতির কারণ।

মামা-মামির বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, কোনো এক ঝগড়ার সময় মামা-মামি নাকি বলেছিলেন, “নিজের বাড়ি না থাকলে মরে যাওয়া উচিত।” তবে আদালতে তাঁরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রদীপ ছিলেন পুলিশকর্মী, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। নীলিমাও পুলিশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এখন ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁদের আইনজীবী আদালতে জানান, করের রসিদ সংক্রান্ত বিষয়ে সোমনাথদের সঙ্গে তাঁদের মনোমালিন্য হয়েছিল, কিন্তু আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

আর্থিক অনটনই কি কারণ?

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সোমনাথদের বাজারে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ঋণ ছিল। সন্তান অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার খরচও প্রচুর বেড়ে গিয়েছিল। ফলে তাঁরা চরম মানসিক অবসাদের মধ্যে ছিলেন। আইনজীবীর মতে, আত্মহত্যার পেছনে মামা-মামির কোনো হাত নেই, বরং দম্পতির আর্থিক চাপই তাঁদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

সুইসাইড নোট কি বলছে?

সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, “কেউ মৃত্যুর আগে মিথ্যা কথা বলে না।” সোমনাথ তাঁদের ঘরের দেওয়ালে সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন, যেখানে মামা-মামির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এই সুইসাইড নোটের ভিত্তিতেই মামা-মামির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

আদালতের রায়

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক প্রদীপ ও নীলিমাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।

ঘটনার সূত্রপাত

মঙ্গলবার সকালে কসবার হালতুতে এক বাড়ি থেকে সোমনাথ, সুমিত্রা ও তাঁদের আড়াই বছরের সন্তানের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। সন্তানকে কাপড়ে জড়িয়ে নিজেও গলায় দড়ি দেন সোমনাথ। তিনি পেশায় অটোচালক ছিলেন এবং মামা-মামির সঙ্গে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।

পরিবারের অভিযোগ

এই ঘটনার পর সুমিত্রার বাবা ও বোন থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামা-মামিকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত এখনো চলছে। মামা-মামি দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *