কলেবরে বৃদ্ধি পেতে একের পর এক দেশ দখল?
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইজরায়েলের বিদেশ মন্ত্রক একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যা পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ওই মানচিত্রে বেশ কিছু আরব দেশকে ইহুদিভূমির অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জর্ডন, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশ। নেতানিয়াহুর সরকারকে অভিযুক্ত করে তারা বলেছে, এই মানচিত্র “বৃহত্তর ইহুদিভূমি” তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ।
ইতিহাসে ফিরতে চাইছে তেল আভিভ?
প্রকাশিত মানচিত্রে আরবি ভাষায় দাবি করা হয়েছে, বাইবেলের বর্ণিত ইহুদি রাজ্যের ঐতিহাসিক সীমান্ত পুনরুদ্ধার করতে চায় ইজরায়েল। সেখানে জর্ডন, লেবানন, এবং সিরিয়ার কিছু অংশকে প্রাচীন ইহুদিভূমি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইজরায়েলি সরকার দাবি করেছে, খ্রিস্টপূর্ব ১০৫০ থেকে ৯৩১ পর্যন্ত রাজা শৌল, ডেভিড এবং সলোমনের শাসনকালে এই অঞ্চল ছিল ইহুদিদের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

আরব দেশগুলির তীব্র প্রতিক্রিয়া
আরব রাষ্ট্রগুলি এই পদক্ষেপকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছে। জর্ডনের বিদেশ মন্ত্রক ইজরায়েলের এই মানচিত্রকে “চরম ডানপন্থী ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছে। সৌদি আরবের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং তার ফল ভোগ করতে হবে ইজরায়েলকে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই ঘটনাকে “উস্কানিমূলক” এবং অঞ্চলীয় শান্তির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ ১৯৬৭ সালের ছ’দিনের যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। সেই যুদ্ধে ইজরায়েল একাধিক আরব অঞ্চল দখল করেছিল। গত কয়েক বছরে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং গাজার সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে তেল আভিভ আরও কিছু এলাকা দখল করেছে।
‘বৃহত্তর ইহুদিভূমি’র ধারণা
ইজরায়েলের সরকার এবং এর মিত্ররা হিব্রু বাইবেলের একটি ধারণাকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে, যেখানে বলা হয়েছে, ইউফ্রেটিস নদী থেকে নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা ইহুদিদের মাতৃভূমি। এই ধারণার ভিত্তিতে লেবানন, সিরিয়া, জর্ডন, ইরাক, মিশর এবং ফিলিস্তিনের কিছু অংশকে ইজরায়েলের অংশ বলে দেখানো হয়েছে।
পশ্চিমা মদত এবং ভবিষ্যৎ উত্তেজনা
ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় আরও রক্তপাত ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকা এবং ব্রিটেনের মতো পশ্চিমা দেশগুলি “বৃহত্তর ইহুদিভূমি”র এই ধারণাকে সমর্থন করতে পারে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেবেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প ইজরায়েলের সম্প্রসারণ নীতিকে সমর্থন করেছিলেন। তার পুনর্নির্বাচনের ফলে এই ইস্যুতে পশ্চিমা সমর্থন আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব
ইজরায়েলের এই মানচিত্র প্রকাশ কেবল আরব দুনিয়া নয়, গোটা আন্তর্জাতিক সমাজের কাছেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি আলোচনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বদলে ইজরায়েল সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের দাবি উঠলেও তেল আভিভ নিজেদের পদক্ষেপকে যথাযথ বলেই দাবি করছে।
শেষ কথা
ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ঘটাতে পারে। আরব দেশগুলির মধ্যে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
‘তুমিই আমার আলো’, হৃতিককে জন্মদিনে শুভেচ্ছায় ভরালেন প্রাক্তন স্ত্রী সুজ়ান ও প্রেমিকা সাবা