রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধ থাকলেও শুনতে হবে হোটেল মালিকদের কথা!
শহরের রুফটপ রেস্তরাঁগুলি নিয়ে চলতে থাকা টানাপোড়েনের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি গৌরাঙ কান্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সমস্ত রুফটপ রেস্তরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে, একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে তাদের ভাঙার কাজও। এই সময়ের মধ্যেই কলকাতা পুরসভাকে রেস্তরাঁ মালিকদের বক্তব্য শোনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কলকাতার বিভিন্ন রুফটপ রেস্তরাঁর মালিকেরা পুরসভার এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের বক্তব্য, ব্যবসা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি নথি তাঁদের কাছে রয়েছে। তবুও, কোনও ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা আলোচনার সুযোগ না দিয়েই পুরসভা তাঁদের রেস্তরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শুধু তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না, কর্মচারীরাও পড়ছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে।
বিচারপতি গৌরাঙ কান্ত রায়ে বলেন, পুরসভা যদি কোনও ব্যবসার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তবে সেই ব্যবসায়ীর বক্তব্য শোনা আইনি দায়িত্ব। কলকাতা পুর আইন ১৯৮০-এর ৪০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
হোটেল মালিকদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, “পুরসভা আমাদের কোনও ত্রুটির কথা জানায়নি। হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়। আমরা চাই, কোন কোন ত্রুটির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি জানানো হোক।”
এদিকে, বড়বাজারে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই কলকাতার বহু ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি প্রস্তুতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তৎপর হয় পুরসভা। সেই প্রেক্ষিতেই শহরের সব রুফটপ রেস্তরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে হাই কোর্টে হোটেল মালিকদের আর্জি ছিল—সব রেস্তরাঁর ক্ষেত্রে একযোগে এই নির্দেশ প্রয়োগ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই কোনও নিরাপত্তা ত্রুটি নেই, তবুও বন্ধ করা হচ্ছে শুধু “রুফটপ” শব্দটির ভিত্তিতে।
এই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি গৌরাঙ কান্ত জানান, “সব রুফটপ রেস্তরাঁর ক্ষেত্রেই এই রায় কার্যকর হবে। তবে ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর শোনা জরুরি। আইন অনুযায়ী পুরসভা একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।”
এই রায়ে হোটেল মালিকেরা যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমন পুরসভার কর্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন দৃষ্টান্ত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই বিতর্কিত সমস্যার একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!