কলকাতার পর দিল্লিতেও ঠিকানা বদল তৃণমূলের!
কলকাতায় অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় ঘিরে টানাপড়েনের মাঝেই দিল্লিতেও নতুন ঠিকানায় সরতে হল তৃণমূল কংগ্রেসকে। দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাংসদদের একাংশের বিদ্রোহের আবহে রাজধানীতে দলীয় দফতরের স্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে দিল্লির রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডে অবস্থিত ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সরকারি বাংলোর একটি অংশকে তৃণমূলের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার পর সেই ব্যবস্থারও পরিবর্তন ঘটল।
দলীয় সূত্রের খবর, পার্থ ভৌমিক বর্তমানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর বাংলো থেকে তৃণমূলের কার্যালয় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের সরকারি বাংলোয়। এখন থেকে দিল্লিতে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে সেখান থেকেই।
পার্থের বাংলো থেকে দলীয় কার্যালয়ের সমস্ত সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার কাজ কয়েক দিন ধরেই চলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, অফিসের আসবাবপত্র, টেলিভিশন, দলীয় নথিপত্র এবং তৃণমূল নেত্রীর লেখা বিভিন্ন বই-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলে কে কখন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন, কে কখন বিদ্রোহী হবেন বা কার বাংলোতে দলীয় কার্যালয় থাকবে— তা সময়ই নির্ধারণ করে। তবে তাঁর মতে, যাঁরা দীর্ঘদিন দলের আস্থাভাজন ছিলেন, তাঁরাই কেন বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এদিকে কলকাতাতেও দলীয় কার্যালয় নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছে তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় মেট্রোপলিটনের একটি পাঁচতলা ভবনকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর ওই ভবনের মালিক মন্টু সাহা দাবি করেন, বহুবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও দল ভবনটি খালি করছে না।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রগতি ময়দান থানায় যাওয়ার কথাও জানান তিনি। পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকেও থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়। দলীয় নেতারা পুলিশকে জানান, কার্যালয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সেই সময় প্রশাসন যেন অযথা হস্তক্ষেপ না করে।
ফলে একদিকে কলকাতায় অস্থায়ী কার্যালয় নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদের বাংলো থেকে দলীয় দফতর সরিয়ে নেওয়া— এই দুই ঘটনাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল এখন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লির কার্যালয়ের এই স্থানান্তর শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য ও আনুগত্যের নতুন মানচিত্রও তুলে ধরছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?