কলকাতাই আমার দিল চুরি করেছে!
করিশ্মা কাপুরের হৃদয়ে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে কলকাতা। শহরের মাটিতে পা রেখেই তা যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন বলিউডের ‘লোলো’। সোমবার কলকাতার এক অনুষ্ঠানে এসে তিনি জানিয়ে দিলেন, “আমার ‘দিল’ তো পাগল হয়ে যায় এই শহরের জন্য!”
সবুজ রঙের মন কাড়া পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে, চেনা সেই করিশ্মা ভঙ্গিমায় হাজির হন তিনি এক মহিলাদের আলোচনাসভায়। অনুষ্ঠানটির নাম ছিল ‘বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন উইথ করিশ্মা কাপুর’। নামের মতোই, আলোচনায় উঠে এল রুপোলি পর্দার বাইরের করিশ্মার জীবনকথা, তাঁর উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা।
করিশ্মার পরনে ছিল পান্না সবুজ রঙের ডিজ়াইনার ট্রাউজার ও পা ছোঁয়া জ্যাকেট, সঙ্গে প্রিন্টেড শার্ট। পনিটেলে বাঁধা চুল, হালকা রূপটান— তাতেই যেন ঝলসে উঠল গোটা মঞ্চ। অনুরাগীদের চোখে তখন শুধুই একটাই মুখ— করিশ্মা কাপুর।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমার ঠাকুরদা রাজ কপূর এবং প্রপিতামহ পৃথ্বীরাজ কপূরের কলকাতার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল। ওঁরা এখানেই বসবাস করতেন, এখান থেকেই মুম্বইয়ের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেই শিকড় আমাকেও টানে। কলকাতায় এলেই মনে হয় যেন নিজের মানুষদের মাঝে ফিরে এসেছি।”
এই শহরের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই গভীর যে সুযোগ পেলেই কলকাতায় চলে আসেন। করিশ্মার মুখে শোনা গেল বাংলা সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর টানও। একসময় ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ ও ‘বায়ি’ গানের রঙিন পর্দার নায়িকা এদিন বাস্তবের মঞ্চে হাসিমুখে বলেন, “শিল্প-সংস্কৃতির শহর কলকাতা বরাবরই আমার খুব প্রিয়।”
শুধু কথার ঝলকেই নয়, অনুরাগীদের মন জয় করলেন নাচের মাধ্যমে। ‘লে গয়ি লে গয়ি’ গানের তালে তিনি মঞ্চে পা মেলালেন— আর হলভরা দর্শক মেতে উঠল করতালিতে।
এই দিনের অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও জীবনের নানা পর্যায়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া। করিশ্মাও নিজের জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা অকপটে শেয়ার করেন। বললেন, “প্রতিটি মহিলাই নিজস্ব গল্প বয়ে নিয়ে চলে। সেই গল্পে রয়েছে সাহস, আত্মবিশ্বাস আর হার না মানার জেদ।”
বলিউডের গ্ল্যামারাস পর্দা থেকে নেমে এসে যেদিন একজন অভিনেত্রী নিজের বাস্তব গল্প বলেন, সেদিন শ্রোতারা শুধু তাঁকে দেখে না, তাঁর সঙ্গে নিজেকে মেলাতে শেখে। এ দিনও তাই ঘটল। করিশ্মার মুখে যেন একেকটা অনুপ্রেরণার বাণী হয়ে ধরা দিল জীবনের গল্প।
শেষে তিনি শহরবাসীর উদ্দেশে একটাই বার্তা দিলেন, “কলকাতা, তুমি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। ডাকে সাড়া দিয়েছি আজ, আবার আসব নতুন গল্প নিয়ে। ভালোবাসা রইল।”
করিশ্মা কাপুরের এ দিনের সফর যেন শুধুই এক আলোচনাসভা ছিল না— ছিল এক আবেগঘন, হৃদয় ছোঁয়া কলকাতার সঙ্গে বন্ধনের পুনর্মিলন।
সামনেই কি সামান্থার বিয়ে? চর্চিত প্রেমিক রাজ নাদিমরুর সঙ্গে তিরুপতির মন্দিরে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী!