ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে রায় ঘোষণার অপেক্ষা!
পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) শংসাপত্র বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আজ, মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী রায় ঘোষণা করতে পারে কলকাতা হাই কোর্ট। মামলার শুনানিতে রাজ্য, কেন্দ্র এবং মামলাকারীদের মধ্যে তীব্র তর্ক ও সওয়াল হয়েছে। মূল প্রশ্ন: আদৌ কি সঠিক পদ্ধতিতে সমীক্ষা করে জনগোষ্ঠীগুলিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে?
সমস্যার গোড়ায় যা রয়েছে:
২০১০ সালের পর রাজ্য যে ওবিসি তালিকা তৈরি করে, তা নিয়েই আপত্তি। মামলাকারীদের অভিযোগ, হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই রাজ্য কোনও সমীক্ষা করেনি। তাদের বক্তব্য, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পেশাভিত্তিক তথ্যের উপর ভিত্তি না করে শুধু কিছু জেলাভিত্তিক পরিবার নিয়ে অসম্পূর্ণ সমীক্ষা করা হয়েছে। ফলে অনেক জাতিকে ওবিসি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া।
অন্যদিকে, রাজ্যের দাবি— হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দিয়েই সমীক্ষা হয়েছে। ‘বেঞ্চমার্ক সমীক্ষা’ করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে। কিন্তু তার পরও মামলাকারীরা দাবি করছেন, নতুন করে জনগণনা না হলে এই তালিকা অবৈধ।
রাজ্যের যুক্তি ও বাধা:
রাজ্য আদালতে জানিয়েছে, এই মামলার প্রভাব পড়ছে কলেজে ভর্তি, শিক্ষক নিয়োগসহ একাধিক সরকারি প্রক্রিয়ায়। সরকারি কর্মব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
তবে ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্যা তাঁরা বোঝেন। কিন্তু এমন অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে— যেমন, বিচারক নিয়োগ। অনেক দিন ধরে নিম্ন আদালতগুলোতে নতুন বিচারক নিযুক্ত হয়নি। অবসরপ্রাপ্তদের জায়গা পূরণ না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়াও থমকে।
কেন্দ্রের অবস্থান:
মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে জানায়, রাজ্যের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায় বাদ দিয়েছে জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন। কারণ, উপযুক্ত জনসংখ্যাগত বা সামাজিক তথ্য ছাড়াই এই সম্প্রদায়গুলোকে ওবিসি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে নতুন জনগণনার কাজ শুরু হবে, এবং তা না হওয়া পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য ভিত্তিতে কোনও সম্প্রদায়ের অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
বিচারের প্রেক্ষাপট:
২০২৩ সালের ২২ মে কলকাতা হাই কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, ২০১০ সালের পরে রাজ্য সরকার যে ওবিসি শংসাপত্র দিয়েছে, তা অবৈধ। কেবল ২০১০ সালের আগের ৬৬টি সম্প্রদায়কে দেওয়া শংসাপত্র বৈধ থাকবে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শীর্ষ আদালত স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে মামলাটি এখনও বিচারাধীন থাকলেও কার্যত রাজ্যজুড়ে ওবিসি নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে।
বিপন্ন ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোম! পুরুষের ভবিষ্যৎ কি তবে বিবর্তনের ছাঁকনিতে?