সুপ্রিম কোর্টে ওবিসি শংসাপত্র
পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি (অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণি) শংসাপত্র নিয়ে চলমান মামলার শুনানি আগামী ৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতা হাই কোর্ট ২০১০ সালের পর থেকে রাজ্য সরকারের দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছিল, এবং সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করেছে।
আজ, ২৩ নভেম্বর ২০২৪, বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলার বিস্তারিত শুনানি হবে। এই মামলায় রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে জানান, রাজ্য সরকারের দেওয়া ৭৭টি অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন যে, প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট যেন স্থগিতাদেশ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে, তার পরেই মামলার মূল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
কপিল সিব্বল আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই ৭৭টি বাতিল শংসাপত্রের মধ্যে কেন্দ্রীয় তালিকার ওবিসি রয়েছে, যা মণ্ডল কমিশনের সুপারিশে এবং প্রতিবেশী রাজ্যের তালিকা থেকে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে, রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও চাকরির নিয়োগে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এও বলেছেন, কেন্দ্রীয় তালিকার শংসাপত্রের খারিজের ফলে অনেক প্রার্থীর সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে, যা রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতা হাই কোর্টের রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি ওই রায়কে “ইন্ডিয়া মঞ্চের গালে থাপ্পড়” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যা আরও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করে।
রাজ্য সরকারের এই শংসাপত্র বাতিলের প্রতিবাদে বহু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এবং চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে এই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সরকারি সুবিধা এবং সুযোগ লাভ করছিলেন। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির মাধ্যমে যে রায় দেবে, তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
৯ ডিসেম্বরের পরবর্তী শুনানি নিয়ে সকলের চোখ এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। যদি আদালত রাজ্য সরকারের আবেদন মেনে নেয়, তবে শংসাপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত হতে পারে, যা রাজ্যের চাকরি এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি কিছুটা মেটাতে সাহায্য করতে পারে।