ওক্‌লাহোমা থেকে টেক্সাসে আগুনের আতঙ্ক, আমেরিকার তেল শোধনাগার ঘিরে রহস্যে তোলপাড় এফবিআই

আমেরিকা তেল শোধনাগার ঘিরে রহস্যে! মাত্র তিন মাসে আমেরিকার একের পর এক তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা দেশে। ওক্‌লাহোমা, টেক্সাস, লুইজ়িয়ানা থেকে ওয়াশিংটন— বিভিন্ন প্রদেশে…

May 15, 2026
1 min read

আমেরিকা তেল শোধনাগার ঘিরে রহস্যে!

মাত্র তিন মাসে আমেরিকার একের পর এক তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা দেশে। ওক্‌লাহোমা, টেক্সাস, লুইজ়িয়ানা থেকে ওয়াশিংটন— বিভিন্ন প্রদেশে পর পর ছ’টি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এগুলি কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্তর্ঘাতের ছক?

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটেছে ১১ মে, ওক্‌লাহোমার টুলসায় অবস্থিত ‘সিনক্লেয়ার’ তেল শোধনাগারে। স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ আচমকা আগুন লেগে যায়। মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আগুনের তীব্রতায় শোধনাগারের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সংস্থার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দ্রুত সক্রিয় হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেলেও হতাহতের খবর মেলেনি।

এর আগেও মার্চ ও এপ্রিল মাসে টেক্সাসের একাধিক শোধনাগারে বিস্ফোরণ এবং আগুনের ঘটনা ঘটে। পোর্ট আর্থারের ভ্যালেরো রিফাইনারিতে বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে, আশপাশের বাড়ির কাচ ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় প্রশাসনকে। এল পাসো, শেভরন পাসাদেনা এবং পেট্রোম্যাক্স শোধনাগারেও আগুন লাগে। ওয়াশিংটনের বিপি চেরি পয়েন্ট রিফাইনারিতেও বিস্ফোরণে কয়েক জন শ্রমিক আহত হন।

মে মাসের শুরুতে লুইজ়িয়ানার চালমেট শোধনাগারেও ভয়াবহ আগুন লাগে। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইউনিটে। সব মিলিয়ে আমেরিকার জ্বালানি পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরে।

এই ঘটনাগুলিকে নিছক কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ মার্কিন গোয়েন্দাদের একাংশ। তাঁদের সন্দেহ, এর পিছনে থাকতে পারে তথাকথিত ‘স্লিপার সেল’ বা সুপ্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক। গোয়েন্দাদের দাবি, এ ধরনের গোষ্ঠী বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকে এবং নির্দেশ পেলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। সেই সময়েই আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারগুলিতে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনায় জল্পনা তীব্র হয়েছে। কিছু মহলের দাবি, ইরানের আধাসেনা বাহিনী আইআরজিসি গোপনে তাদের সমর্থকদের সক্রিয় হওয়ার বার্তা পাঠিয়েছে। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

অন্য দিকে, কিছু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, ছোট ড্রোন হামলা বা অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেকে মনে করছেন, অতিরিক্ত চাপ, পুরনো পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটিও এই দুর্ঘটনাগুলির কারণ হতে পারে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— আমেরিকার জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। কারণ, এই শোধনাগারগুলিই দেশের পেট্রল, ডিজ়েল এবং বিমান জ্বালানির বড় অংশ সরবরাহ করে। ফলে পর পর এই অগ্নিকাণ্ড শুধু অর্থনীতিকেই নয়, জাতীয় নিরাপত্তাকেও চাপে ফেলেছে। এখন নজর এফবিআই এবং মার্কিন গোয়েন্দাদের তদন্তের দিকে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *