বিশ্বকাপের পরই অবসর নিলেন ইংরেজ রেফারি অ্যান্থনি টেলর!
বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বের অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি অ্যান্থনি টেলর। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ৪৭ বছর বয়সি ইংরেজ রেফারি বলেছেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনার সঙ্গে যে মানসিক চাপ এবং নিরন্তর নজরদারি জড়িয়ে থাকে, তা আর বহন করতে চান না।
প্রায় ২০ বছরের রেফারিং জীবনে টেলর পরিচালনা করেছেন ৮৩১টি ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শেষ দায়িত্ব ছিল চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন ও পর্তুগালের ম্যাচ। সেই ম্যাচের পরই তিনি ফিফা রেফারি হিসেবে অবসরের ঘোষণা করেন।
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় টেলর বলেন, “বিশ্বের সেরা ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করা আমার কাছে বিরাট সম্মানের। কিন্তু এই স্তরে কাজ করতে গেলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের উপর অসাধারণ চাপ থাকে। আমি মনে করি, এবার নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে।”
টেলরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ২০২০ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের ম্যাচে। সেই ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ মাঠেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন ডেনমার্কের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে মুহূর্তের মধ্যে খেলা বন্ধ করেন টেলর এবং চিকিৎসকদের মাঠে ঢোকার ব্যবস্থা করেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁর ভূয়সী প্রশংসা হয়েছিল। অনেকের মতে, সেই সময় তাঁর উপস্থিত বুদ্ধিই এরিকসেনের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
রেফারি হওয়ার আগে ইংল্যান্ডের কারা বিভাগে চাকরি করতেন টেলর। ২০০৬-০৭ মরসুমে পেশাদার রেফারিং শুরু করেন। ২০১০ সালে প্রথম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পান। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রিমিয়ার লিগে ৪৩২টি ম্যাচ পরিচালনার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের প্রায় সব বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউরোপের একাধিক ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনাল এবং মোট ১৬৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচও পরিচালনা করেছেন তিনি।
গত ১৪ বছর ধরে ফিফার এলিট রেফারিদের তালিকায় ছিলেন টেলর। ২০২২ বিশ্বকাপ, ইউরো ২০২০ এবং ইউরো ২০২৪-এও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সম্ভাব্য রেফারিদের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। তবে আর্জেন্টিনার উপস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
তবে বিতর্কও এড়িয়ে চলতে পারেননি টেলর। ২০২৩ সালের ইউরোপা লিগের ফাইনালে তাঁর একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। রোমার তৎকালীন কোচ হোসে মরিনহো প্রকাশ্যে তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। পরে সেই ঘটনার জেরে বুদাপেস্ট বিমানবন্দরে টেলর ও তাঁর পরিবারকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল বলেও পরে স্বীকার করেছিলেন তিনি।
সব বিতর্ক ছাপিয়ে, কঠিন মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নিরপেক্ষ ম্যাচ পরিচালনার জন্যই অ্যান্থনি টেলর ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় রেফারি হয়ে থাকবেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?