বাদ পড়া থেকে ভারতের সেরা টেস্ট ব্যাটার হয়ে উঠলেন লোকেশ রাহুল!
মাত্র এক বছরে লোকেশ রাহুলের জীবনে ঘটেছে নাটকীয় পরিবর্তন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অনেকেই ভেবেছিলেন, তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার হয়তো শেষের পথে। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, একাদশে জায়গা হারানো, এমনকি আইপিএলে ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বছর ঘুরতেই তিনিই এখন ভারতের টেস্ট দলের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ব্যাটার, এবং নতুন উচ্ছ্বাসে যেন অতীতের সব সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন।
এক সময় টেস্ট হোক বা সীমিত ওভারের ক্রিকেট—রাহুলের ব্যাটে রান আসছিল না। প্রথমে টেস্ট দলের প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েন, তারপর এক দিনের দল থেকেও ছিটকে যান। আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক হিসেবেও সমালোচনায় পড়তে হয় তাঁকে। সঞ্জীব গোয়েন্কার সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা এবং ফর্মহীনতা মিলিয়ে তাঁর কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
তবে রাহুলের সম্পর্কে একটা বিষয় সব সময় স্পষ্ট ছিল—তিনি ভারতের অন্যতম টেকনিক্যালি দক্ষ ব্যাটার। ওপেনার হিসেবে যেমন সফল, তেমনই পাঁচ-ছয় নম্বরেও খেলতে পারেন সমান দক্ষতায়। ব্যাটার হিসেবে রান তোলার পাশাপাশি উইকেটকিপার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে ঋষভ পন্থের অনুপস্থিতিতে তিনিই সামলেছিলেন উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব। সেই কারণেই তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে ক্রিকেট মহল কখনও পুরোপুরি আশা ছাড়েনি।
গত এক বছরে রাহুল নিজের খেলা এবং ফিটনেস নিয়ে অসাধারণ পরিশ্রম করেছেন। মাঠে ফিরে মন দিয়ে অনুশীলন করেছেন, নিজের ব্যাটিংয়ের ত্রুটি খুঁজে তা শুধরেছেন। তাঁর সেই শ্রমের ফলও মিলছে স্পষ্ট। কোহলি ও রোহিতের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতেও রাহুল এখন দলে অন্যতম স্তম্ভ। দলের সবচেয়ে কঠিন সময়েও ব্যাট হাতে ভরসা জোগাচ্ছেন তিনি। রোহিতের অবসরের পর ওপেনিং নিয়ে শুভমন গিলদের যে চিন্তা ছিল, তা অনেকটাই দূর করেছে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।
শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টেস্টে নিজের ১১তম শতরান করে ফেলেছেন রাহুল। দেশের মাটিতে এটি তাঁর দ্বিতীয় শতরান। প্রথমটি এসেছিল প্রায় ৮ বছর ৯ মাস আগে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চেন্নাই টেস্টে, যেখানে তিনি করেছিলেন ১৯৯ রান। অর্থাৎ, ৩২১১ দিন পর নিজের ঘরের মাঠে শতরান করলেন রাহুল। উল্লেখযোগ্য বিষয়, শেষ ছয়টি টেস্টে এটি তাঁর তৃতীয় শতরান। এর আগে ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ টেস্টে ৫৩.২০ গড়ে করেছিলেন ৫৩২ রান। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধেও প্রথম ইনিংসে শতরান করে নিজের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করলেন।
আজ তিনি কেবল ভারতের সেরা টেস্ট ব্যাটারই নন, এক দিনের ক্রিকেটেও দেশের সেরা উইকেটরক্ষক হিসেবে জায়গা পাকা করেছেন। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) র্যাঙ্কিংয়েও দ্রুত উপরে উঠছেন তিনি। শতরানের পর তাঁর নতুন ধরনের উদ্যাপন হয়তো সেই সব সমালোচকদের উদ্দেশেই বার্তা, যাঁরা একসময় তাঁকে বাতিল ভেবেছিলেন।
রাহুলের গল্প প্রমাণ করে দেয়, ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও ধৈর্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ৩৩ বছরের এই ব্যাটারকে একসময় অবসরের দোরগোড়ায় ভেবে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ তিনি আবারও নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছেন—ভারতের ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে। বছরখানেক আগেও যিনি ছিলেন সন্দেহের কেন্দ্রে, আজ তিনি সেই দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানো শুধু ক্রিকেট নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লড়াই করে ফিরে আসার এক অনুপ্রেরণার গল্প।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?