এক দেশ এক ভোট
ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তনের জন্য এবার সংসদের যৌথ কমিটি বৈঠক করবে। আগামী ৮ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে সংসদীয় যৌথ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন রাজ্যসভা ও লোকসভা উভয়ের সাংসদরা, যাদের মধ্যে আলোচনা হবে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে।
যৌথ কমিটির গঠন
এ বৈঠকের নেতৃত্ব দেবেন রাজস্থানের পালি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ প্রেমপ্রকাশ চৌধরি, যিনি পিপি নামে পরিচিত। এই কমিটি সাধারণত ৩১ জন সাংসদ নিয়ে গঠিত হয়, তবে এবারের কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯ জন করা হয়েছে। এই কমিটিতে ২২ জন সাংসদ থাকবেন এনডিএ’র পক্ষ থেকে, ১৫ জন সাংসদ বিরোধী পক্ষ থেকে, এবং বিজেডি ও ওয়াইএসআর কংগ্রেসের একজন করে সাংসদ থাকবেন।
কমিটিতে যোগ দিয়েছেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, যেমন ওয়েনাড়ের সদ্য নির্বাচিত কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা বঢরা, বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, পুরুষোত্তম রূপালা এবং প্রয়াত বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কন্যা বাঁশু বর্মা। এই কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য হলো, ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে সকল পক্ষের মতামত সঠিকভাবে তুলে ধরা।
সংসদে বিল পেশ এবং বিরোধীদের আপত্তি
গত ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল লোকসভায় দু’টি বিল পেশ করেন। একটির মাধ্যমে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয় এবং অন্যটি ছিল একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা ভোট করার জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল। তবে বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আপত্তি জানায়। কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএমসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই প্রস্তাবের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি, লোকসভায় বিল পেশের সময় বিরোধী সাংসদরা ‘ডিভিশনের’ দাবি জানিয়ে ভোটাভুটি করতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত ২৬৯টি ভোট পক্ষে এবং ১৯৮টি বিপক্ষে পড়ে, যার ফলে বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দেন।
সংবিধান সংশোধনী বিল
এই বিলটি একটি বড় সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চলেছে, যার মাধ্যমে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব দলের সাংসদদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা, যাতে প্রত্যেক পক্ষের মতামত এই আলোচনায় প্রতিফলিত হয়। তাই সরকার পক্ষের চার এবং বিরোধী পক্ষের চারজন সাংসদ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।
বৈঠক এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলি নির্ধারণ করা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো এই নীতি বাস্তবায়ন করলে তা কীভাবে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সহজ, সুষ্ঠু এবং কার্যকর করতে পারে। যদিও বিরোধী পক্ষের কিছু সাংসদ মনে করেন, এই ধরনের একক নির্বাচন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে এবং এটি রাষ্ট্রীয় অধিকার হরণ করার সমান।
এদিকে, এই বিলের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজ্যগুলির স্বাধীনতা এবং তাদের নির্বাচন পদ্ধতির উপর এর প্রভাব কেমন হবে। ‘এক দেশ এক ভোট’ পদ্ধতির কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা চলবে এবং সকল পক্ষের মতামত শুনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বৈঠক আগামী দিনে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, তবে তার আগে বিরোধী পক্ষের আপত্তি ও উদ্বেগের মুখে সরকারকে এই প্রস্তাব নিয়ে আরও বিশদভাবে চিন্তা করতে হবে।