ঋত্বিকের খোলামেলা স্বীকারোক্তি: “টলিউডে ভয়ের পরিবেশ ছিল, এখন রাজনীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি চাই”

টলিউডে ভয়ের পরিবেশ ছিল, এখন রাজনীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি চাই বাংলা সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী বরাবরই নিজের স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়েও…

May 29, 2026
1 min read

টলিউডে ভয়ের পরিবেশ ছিল, এখন রাজনীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি চাই

বাংলা সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী বরাবরই নিজের স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়েও তিনি অকপটে মত প্রকাশ করেন। সম্প্রতি এক আড্ডায় টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নতুন ছবি, পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবন— নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা।

ঋত্বিকের মতে, গত কয়েক বছরে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে একটা “ভয়ের পরিবেশ” তৈরি হয়েছিল। তাঁর কথায়, “ব্যান কালচার ইন্ডাস্ট্রির অংশ হয়ে গিয়েছিল। কাজের ক্ষেত্রেও নানা অসুবিধা হয়েছে। ছবি কতদিন হলে চলবে, কতগুলো হল পাবে— এসব নিয়েও সমস্যা তৈরি হত।” তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পরে তিনি আশাবাদী। অভিনেতার আশা, ভবিষ্যতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আরও স্বাধীন ও রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারবে।

অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূলের আগেও কাজ করেছেন, কিন্তু সেই সময় এমন পরিস্থিতি দেখেননি। তাঁর দাবি, আগে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব এতটা স্পষ্ট ছিল না। বহু প্রবীণ শিল্পীর কাছ থেকেও তিনি একই অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন।

সম্প্রতি তাঁর ছবি ‘নধরের ভেলা’ নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। ছবিটি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করছেন তাঁরা। ঋত্বিক বলেন, এটি শুধুই প্রেক্ষাগৃহ এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নয়, বরং বাংলা ছবিকে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন প্রয়াস। তাঁর মতে, এখন বাংলা ছবির জন্য নতুন পথ খুঁজে নেওয়াটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্য দিকে, নতুন ছবি ‘ফেরা’-তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। ছবিতে তাঁর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সঞ্জয় মিশ্র। সেই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ঋত্বিক বলেন, সঞ্জয় মিশ্র শুধু অসাধারণ অভিনেতাই নন, অত্যন্ত সহজ মানুষও। শুটিংয়ের ফাঁকে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, গল্প— সব মিলিয়ে তাঁদের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সঞ্জয় মিশ্রের বাংলা ডাবিং অভিনেতাকে মুগ্ধ করেছে। ঋত্বিক জানান, শুধুমাত্র উচ্চারণ নয়, বাংলার আবেগও বোঝার চেষ্টা করেছিলেন সঞ্জয়। একজন পেশাদার অভিনেতা হিসাবে তাঁর নিষ্ঠা এবং টিমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সত্যিই শিক্ষণীয় বলে মনে করেন ঋত্বিক।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা ছিলেন অভিনেতা। তিনি জানান, খুব সাধারণ জীবনযাপনেই তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য। কমে খুশি থাকা তাঁর জীবনের অন্যতম দর্শন। সেই শিক্ষাই তিনি নিজের সন্তানকেও দিতে চান। ঋত্বিকের কথায়, “সহানুভূতিশীল মানুষ হয়ে উঠুক, সব মত শোনার মতো মন তৈরি হোক— এটাই চাই।”

অভিনয় নিয়ে এত প্রশংসা, সহ-অভিনেতাদের ঈর্ষাও— এসব নিয়ে অবশ্য খুব একটা ভাবেন না তিনি। ঋত্বিকের মতে, অভিনয়ের সময় শুধুই চরিত্র আর কাজের মধ্যেই ডুবে থাকেন তিনি। আর সেই একাগ্রতাই তাঁকে আজকের জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *