উত্তপ্ত যাদবপুর!
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে তীব্র বিক্ষোভের সম্মুখীন হন। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— তিনি দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেছেন ও অসদাচরণ করেছেন। তাই তাঁকে ঘিরে শুরু হয় প্রতিবাদ।
সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করলেও, ছাত্র প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেননি। তাঁরা জানিয়েছেন, ক্লাস ও পরীক্ষা শেষে বিকেল ৩টায় আলোচনায় বসবেন।
অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা
ন’দিন পর ক্যাম্পাসে এলেন অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র। কিন্তু তাঁকে দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপকের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ— তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছেন।
শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বসে পড়েন তাঁর ঘরের সামনে। তাঁদের সাফ কথা— ‘‘এই অধ্যাপককে যদি ক্লাস নিতে হয়, তবে তাঁকে আমাদের শরীরের ওপর দিয়ে যেতে হবে।’’
অন্যদিকে, অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। বরং আমাকেই সেদিন ক্যাম্পাসে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছিল।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা, বিতর্ক দানা বাঁধছে
সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। অথচ কয়েকদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, তিনি শিক্ষাঙ্গনে পুলিশি নিরাপত্তা চান না। কিন্তু অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের আগমনের দিন চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল।
কর্তৃপক্ষের বৈঠক, তবে অনুপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধিরা
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি বৈঠক আহ্বান করে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—
✅ সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত
✅ রেজিস্ট্রার কণিষ্ক সরকার
✅ ডিন অফ স্টুডেন্টস রজত রায়
✅ বিভিন্ন বিভাগের প্রধানেরা
কিন্তু ছাত্র প্রতিনিধিরা বৈঠকে আসেননি। তাঁদের যুক্তি— ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পঠনপাঠন শুরু হয়েছে, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসেছেন। তাই তাঁরা বিকেল ৩টায় আলোচনায় অংশ নেবেন।’’
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কতদূর গড়াবে?
যাদবপুরের এই আন্দোলন এখনও থামার লক্ষণ নেই। শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন— অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসন চাইছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে— বিশ্ববিদ্যালয় কি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেবে, নাকি অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র নিজের পদ ধরে রাখতে পারবেন? সময়ই দেবে তার উত্তর।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে