শর্ত মানলেই তবেই আলোচনায় বসবে ইরান!
পশ্চিম এশিয়ার টানাপোড়েনের মাঝে নতুন করে নজর কাড়ল এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। প্রায় ৭০ সদস্যের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল নিয়ে Iran পৌঁছে গিয়েছে Pakistan-এ। ইসলামাবাদে বসতে চলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠক, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয়—ইরান ও United States-এর সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।
এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi এবং পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, দলে জায়গা পেয়েছেন অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ে দক্ষ প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরাও। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল ও বহুমুখী প্রতিনিধি দলই প্রমাণ করে—এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
তবে আলোচনার পথ মোটেও মসৃণ নয়। পাকিস্তানে রওনা দেওয়ার আগেই গালিবাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত না মানা হলে কোনও আলোচনাই শুরু হবে না। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে তেমনই স্পষ্ট হয়েছে ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অনাস্থা।
ইরানের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে বিদেশে আটকে থাকা তাদের আর্থিক সম্পদ মুক্ত করা। পাশাপাশি, লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিও জানিয়েছে তেহরান। শুধু তাই নয়, এই যুদ্ধবিরতির স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে—বিশেষ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে—প্রস্তাব আকারে চায় তারা। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন বা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা।
গালিবাফের কথায়, এই শর্তগুলি পূরণ না হলে কোনও ‘বাস্তবসম্মত চুক্তি’র পথে এগোনো সম্ভব নয়। যদিও তিনি এটাও জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি ইরানের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে আন্তরিক প্রস্তাব দেয়, তবে তেহরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই দাবিগুলির উপর সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী, কিন্তু একই সঙ্গে সতর্কও। তাঁর মন্তব্য, “আমরা আশাবাদী, তবে ইরান যদি আমাদের সঙ্গে কৌশল খেলতে চায়, আমাদের দলও সহজ প্রতিপক্ষ নয়।”
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আরও এক দফা উত্তেজনা বাড়িয়েছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। সম্প্রতি তিনি দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইরানের সামনে সমঝোতা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।
দুই পক্ষের এই কড়া অবস্থান ও কথার লড়াইয়ের মাঝেই ইসলামাবাদের বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে চাপা উত্তেজনা। এখন দেখার, এই শর্ত আর পাল্টা শর্তের লড়াই পেরিয়ে আদৌ কোনও সমঝোতার পথ বেরোয় কি না। বিশ্ব রাজনীতির নজর আপাতত এই বৈঠকের দিকেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?