ইরান সফরে আমেরিকানদের কঠোর সতর্কবার্তা!
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আমেরিকার নাগরিকদের ইরানে না যাওয়ার পরামর্শ দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ১১ জুলাই মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরানে ভ্রমণ বর্তমানে ‘গুরুতর ঝুঁকি’ নিয়ে আসতে পারে। বিশেষত আমেরিকা-ইরান দ্বৈত নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
বিদেশ দফতরের বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “ইরানে বোমা হামলা বন্ধ মানেই নিরাপত্তা ফিরে আসা নয়।” আমেরিকার দাবি, ইরান দ্বৈত নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দেয় না এবং অতীতে বহু আমেরিকান নাগরিককে ইরান নির্বিচারে আটক করেছে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নতুন করে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু সতর্কবার্তা দিয়েই থেমে থাকেনি তারা। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। যেখানে ইরানে আটক, নির্যাতন কিংবা অন্য ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য রয়েছে। উল্লেখযোগ্য, গত কয়েক বছরে একাধিক ইরান-আমেরিকান নাগরিক ইরানে আটক হয়েছেন। ফলে এই সতর্কতা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিতে এটি আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে।
গত জুন মাস থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে। ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া ‘রাইজিং লায়ন’ অভিযানের সময় ইজ়রায়েল ইরানের পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বিশেষ করে নাতান্জ ও ফোরডোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে ইজ়রায়েলি বাহিনী। পাল্টা জবাব দেয় ইরান। এরপর আমেরিকাও ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামো ধ্বংস করতে সক্রিয় হয়। ২২ জুন আমেরিকার তরফে বিমান হানায় ইরানের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নস্যাৎ করতে সফল হয়েছেন তাঁরা। তবে ইরানও পাল্টা কাতারে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই টানাপড়েনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, ইরান এবং ইজ়রায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবুও দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা এখনও রয়েছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
আমেরিকা ইরানের সঙ্গে নতুন করে পারমাণুচুক্তির আলোচনা শুরু করতে চাইলেও, এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যেই ইরান ভ্রমণ নিয়ে এমন সতর্কতা ফের নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে কূটনৈতিক টানাপড়েন—এই দুইয়ের মাঝেই আমেরিকার এই সতর্কবার্তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিস্থিতি যে শান্ত হয়নি, তা স্পষ্ট। আমেরিকা যেমন ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, তেমনই তেহরানও নিজেদের প্রতিরক্ষায় কোনও কমতি রাখছে না। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ফের অশান্তির মুখে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
গুগ্ল ড্রাইভের জায়গা শেষ? টাকা না খরচ করেও ১৫ জিবির বাইরে স্টোরেজ বাঁচানোর ৫টি কার্যকরী উপায়