ইরান-আমেরিকা সমঝোতায় অস্বস্তিতে ইজ়রায়েল? কেন ‘বিপর্যয়’-এর আশঙ্কা দেখছেন নেতানিয়াহু

ইরান-আমেরিকা সমঝোতায় অস্বস্তিতে ইজ়রায়েল? ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সাম্প্রতিক সমঝোতা পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, এই চুক্তি শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই বাড়াবে না, বরং…

June 19, 2026
1 min read

ইরান-আমেরিকা সমঝোতায় অস্বস্তিতে ইজ়রায়েল?

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সাম্প্রতিক সমঝোতা পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, এই চুক্তি শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই বাড়াবে না, বরং ইজ়রায়েলের নিরাপত্তাকেও আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু পর্দার আড়ালের ছবি নাকি এতটা সরল নয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, এই সমঝোতা নিয়ে ইজ়রায়েলের মধ্যে যথেষ্ট অস্বস্তি রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে এমন কোনও চুক্তির পক্ষে ছিলেন না। তাঁর আশঙ্কা, এই সমঝোতা ইরানের উপর চাপ কমিয়ে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে ইজ়রায়েলের কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।

চুক্তিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে লেবানন প্রসঙ্গে। সূত্রের দাবি, ইরানের অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননে উত্তেজনা কমানো এবং Hezbollah-র বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সীমিত রাখা। কিন্তু সমঝোতার আগে পর্যন্ত ইজ়রায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে গিয়েছে এবং নেতানিয়াহু বারবার জানিয়েছেন যে, হিজ়বুল্লাকে মোকাবিলার অভিযান বন্ধ হবে না।

এখন সমালোচকদের একাংশের মতে, আমেরিকা যদি এই শর্ত মেনে থাকে, তা হলে ইজ়রায়েলের সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্র সংকুচিত হতে পারে। সেই কারণেই অনেকের ধারণা, এই চুক্তি কার্যত ইজ়রায়েলের ‘হাত বেঁধে’ দিয়েছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একই অবস্থানে ছিল আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। দুই দেশই তেহরানের পরমাণু সক্ষমতাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করে এসেছে। অতীতে এই লক্ষ্যেই কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। সংঘাতের বদলে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে তেল আভিভে।

ইজ়রায়েলের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Yaakov Amidror প্রকাশ্যে এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, সমঝোতাটি ইজ়রায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থের পক্ষে ইতিবাচক নয়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইজ়রায়েলের সামনে এখনও বড় নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সেই কারণেই ধৈর্য ও সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা ইজ়রায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রুখে দেওয়ার লক্ষ্য থেকে ইজ়রায়েল সরে আসবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফলে আপাতত কূটনৈতিক সমঝোতা হলেও ইরান-ইজ়রায়েল দ্বন্দ্বের মূল কারণগুলি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন একটাই— আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতা কি সত্যিই পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ খুলে দেবে, নাকি ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েনের সূচনা করবে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহেই।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *