ইরানে ফের মার্কিন হামলা!
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক শহরে নতুন করে হামলা চালানোর খবর সামনে এসেছে। ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সিরিক, মিনাব, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তারা ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নতুন “self-defense strikes” চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি, কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার ওই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
তবে আমেরিকার বক্তব্য ভিন্ন। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে এখনও কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। এই বিরোধী দাবির ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump আবারও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তবে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর জবাবে ইরানের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সংঘাত কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের উপর আরও হামলা হতে পারে।
হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল। ফলে প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আমেরিকা-ইরান সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক অভিযান, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য— তিনটিই সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে, কারণ সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতেই পড়তে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?