‘ইয়ুম-ই-তাশাকুর’ পালনে মেতে পাকিস্তান!
ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক অভিযান ‘অপারেশন বুনিয়ান-আন-মারসুস’ সফল দাবি করে গোটা দেশে উৎসব ঘোষণা করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রবিবার ‘ইয়ুম-ই-তাশাকুর’ বা কৃতজ্ঞতার দিন পালন করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি—এই বিশেষ দিন উৎসর্গ করা হয়েছে পাকিস্তানি সেনাদের।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ভারতের তরফে মঙ্গলবার রাতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ দিয়ে। সেই অভিযানে ভারত দাবি করেছিল, পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, ওই হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার সকালে ইসলামাবাদ ঘোষণা করে ‘অপারেশন বুনিয়ান-আন-মারসুস’। আরবি এই নামের অর্থ, ‘শিসার তৈরি কঠিন প্রাচীর’—প্রতিরোধ ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এই নামটি।
এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই, শনিবার বিকেলে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসলামাবাদ সেই বিরতিকে সাফল্য হিসেবেই দেখছে। শাহবাজ শরিফ বলেন, “ভারতের আগ্রাসনের যথাযথ জবাব দিয়েছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। আমরা দেখিয়েছি, যে কোনও পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দুর্বল নয়।” এরপরই তিনি আহ্বান জানান দেশজুড়ে ‘ইয়ুম-ই-তাশাকুর’ পালনের, যা মূলত সেনাদের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানাতে আয়োজন করা হয়েছে।
‘ইয়ুম-ই-তাশাকুর’ শব্দটি এসেছে উর্দু ভাষা থেকে, যার অর্থ ‘ধন্যবাদ জানানোর দিন’। এই দিনটিকে ঘিরে পাকিস্তানে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ, জাতীয় গর্বের আবেগে ভাসছে একাংশ।
তবে সব কিছু এতটা শান্তিপূর্ণ থাকেনি। যদিও বিকেলে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হয়েছিল, রাতেই সেই চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। পশ্চিম সীমান্তে ফের গোলাবর্ষণের শব্দ, বিস্ফোরণের আওয়াজে অশান্ত হয় উপকণ্ঠ। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা টুইট করে একটি শেলিং-এর ভিডিয়ো পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন, “সংঘর্ষবিরতির ভবিষ্যৎ কী?”
এই প্রেক্ষিতে রাত ১১টার পর সাংবাদিক বৈঠক করেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী। তিনি পাকিস্তানের আচরণের তীব্র নিন্দা করে বলেন, “এটা বিশ্বাসঘাতকতা। এই আচরণ শান্তিপূর্ণ আলোচনার পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে।” এরপর থেকে অবশ্য সীমান্তে আবার গোলাগুলির খবর মেলেনি।
এদিকে, পাকিস্তানও নিজেদের অবস্থানে অনড়। তারা জানিয়েছে, তাদের সেনা বাহিনী যথেষ্ট দায়িত্বশীল এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতেই তারা বদ্ধপরিকর। সেই সঙ্গেই ভারতের বিরুদ্ধেও সংঘর্ষবিরতি ভঙ্গের পাল্টা অভিযোগ এনেছে ইসলামাবাদ।
সব মিলিয়ে সংঘর্ষবিরতির পরও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা এখনও থামেনি। যদিও দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার কথা বলছে, মাঠে-ময়দানে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও শান্ত নয়। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের উৎসব উদযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, যুদ্ধবিরতির আদৌ ভবিষ্যৎ কী, তা সময়ই বলবে।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মিথ্যাচারের তৎপরতা: ভুয়ো খবরকে হাতিয়ার করছে পাকিস্তান