নিজের জীবন ও ভাবনা নিয়ে খোলামেলা প্রসেনজিৎ!
বাংলা সিনেমার দীর্ঘ যাত্রার অন্যতম পরিচিত মুখ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এক সময়ের ‘ম্যাটিনি আইডল’ থেকে আজকের পরিণত অভিনেতা—দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি দেখেছেন ইন্ডাস্ট্রির উত্থান-পতন, বদলে যাওয়া সময় এবং অভিনয়ের নতুন ধারা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, অভ্যাস, সিনেমার প্রতি ভালোবাসা এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন অভিনেতা।
প্রসেনজিৎ মনে করেন, বাংলা সিনেমার উন্নতির জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাহায্য নেওয়াতেও কোনও সমস্যা নেই বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, বাংলা চলচ্চিত্রকে আরও বড় জায়গায় পৌঁছে দিতে যে কোনও ইতিবাচক সহযোগিতাই গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনয়ের বাইরে নিজের জীবনযাপনের প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ জানান, শরীরচর্চা তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত দেড় থেকে দু’ঘণ্টা জিমে সময় দেন তিনি। তাঁর মতে, শরীরচর্চা শুধু শরীর ভালো রাখে না, মানসিক চাপও কমায়।
অভিনেতা বলেন, অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে রাতেও জিমে যেতে হয় তাঁকে। তবে শরীরচর্চার সময় আধুনিক গান নয়, বরং পুরনো দিনের গান শুনতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। তাঁর প্লে-লিস্টে থাকে মহম্মদ রফি, কিশোর কুমার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং শ্যামল মিত্রের মতো কিংবদন্তিদের গান।
সিনেমার পাশাপাশি বই পড়ার প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। তবে অভিনেতা হিসেবে চিত্রনাট্য পড়ার গুরুত্ব তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি। প্রসেনজিতের বিশেষ পছন্দ কাগজে লেখা চিত্রনাট্য। তাঁর কথায়, আইপ্যাড বা ল্যাপটপে স্ক্রিপ্ট পড়লেও সেই অনুভূতি পাওয়া যায় না, কাগজের গন্ধ না পেলে যেন চিত্রনাট্য পড়ার মজা সম্পূর্ণ হয় না।
সিনেমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই। এখনও ছবি না দেখে ঘুমোতে পারেন না তিনি। পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করে জানান, এক সময় পরিবারের কাউকে বিরক্ত না করে লুকিয়ে সিনেমা দেখতেন তিনি। সেই অভ্যাস এখনও রয়ে গিয়েছে।
জীবনের কঠিন সময় নিয়েও কথা বলেছেন প্রসেনজিৎ। অভিনেতা জানান, একটা সময় নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দু’বছর নিজের মতো করে সময় কাটিয়েছেন। তবে সেই অভিজ্ঞতাগুলিই পরবর্তী সময়ে তাঁর অভিনয়ে গভীরতা এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
প্রসেনজিতের মতে, একজন অভিনেতার পরিণত হয়ে ওঠার পিছনে শুধু কাজের অভিজ্ঞতা নয়, জীবনের ভালো-মন্দ সব মুহূর্তেরই ভূমিকা থাকে। ব্যক্তিগত লড়াই, ওঠাপড়া এবং উপলব্ধিগুলি চরিত্রকে আরও ভালো ভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছ থেকেও তিনি শেখেন বলে জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। তাঁর বিশ্বাস, অভিনয়ের কোনও শেষ সীমা নেই। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলানো এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহই একজন শিল্পীকে দীর্ঘ দিন প্রাসঙ্গিক রাখে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?