ইতিহাস রচনায় লাল-হলুদ কন্যারা: মেয়েদের আই লিগ জিতে গর্বের ট্রফি ইস্টবেঙ্গলের ঘরে

মেয়েদের আই লিগ জিতে গর্বের ট্রফি ইস্টবেঙ্গলের ঘরে! পুরুষ দল যেটা করে দেখাতে পারেনি, সেটাই করে দেখাল ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দল। ২১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঘরোয়া লিগ জয়ের স্বপ্নকে বাস্তব…

April 12, 2025
1 min read

মেয়েদের আই লিগ জিতে গর্বের ট্রফি ইস্টবেঙ্গলের ঘরে!

পুরুষ দল যেটা করে দেখাতে পারেনি, সেটাই করে দেখাল ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দল। ২১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঘরোয়া লিগ জয়ের স্বপ্নকে বাস্তব করল লাল-হলুদ কন্যারা। শুক্রবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে ওড়িশা এফসি-কে ১-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই মহিলাদের আই লিগ নিজেদের করে নিল ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সৌম্যা গুগুলথের দুর্দান্ত গোলই জয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়। সেই একমাত্র গোলেই জিতে যায় ইস্টবেঙ্গল এবং নিশ্চিত হয়ে যায় বহু কাঙ্ক্ষিত ট্রফি। এর মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ ২১ বছরের শূন্যতা ঘুচল—২০০৩-০৪ মরসুমে পুরুষ দল যখন শেষবার আই লিগ জিতেছিল।

পুরুষ দল গত পাঁচ বছর ধরে খেলছে আইএসএলে, কিন্তু এখনও অবধি কোনও ট্রফি এনে দিতে পারেনি। প্লে-অফেও উঠতে পারেনি একবারও। অথচ মহিলা দল মাত্র তৃতীয় বার আই লিগ খেলতেই বাজিমাত করে দিল। এই জয়ের সুবাদে ইস্টবেঙ্গল মহিলাদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার টিকিটও নিশ্চিত করল—যা ভারতীয় মহিলা ফুটবলে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সঠিক পরিকল্পনা ও শক্তিশালী দলগঠন। শুরু থেকেই লিগ জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। গোকুলম কেরালাকে দু’বার আই লিগ জেতানো কোচ অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজকে দায়িত্বে আনা হয়। দলে যোগ দেন জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার অঞ্জু তামাং, আশালতা দেবী ও সন্ধ্যা রঙ্গনাথন। বিদেশি শক্তির দায়িত্বে ছিলেন কেনিয়ার রেস্টি নানজিরি ও ঘানার এলশাদ্দাই আচেমপং—যিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২০ গোল)।

দলের নেতৃত্বে ছিলেন সুইটি দেবী। সঙ্গে ছিলেন একঝাঁক তরুণ বাঙালি প্রতিভা—তৃষা মল্লিক, দেবলীনা ভট্টাচার্য, তিতলি সরকার, সুলঞ্জনা রাউল। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই লিগ জয়ের মঞ্চ গড়ে ওঠে।

একমাত্র গোকুলম কেরালার বিরুদ্ধে জয় আসেনি এখনও। তবে ১৮ এপ্রিল সেই ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে লিগ ট্রফি তুলে দেওয়া হবে ইস্টবেঙ্গলের হাতে।

এই জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, এটি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের গৌরবের নতুন অধ্যায়। সমর্থকদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচল। বহুবার পুরুষ দল যা পারেনি, তা করে দেখিয়ে লাল-হলুদ পতাকাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন মেয়েরা।

এই ট্রফি জয় প্রমাণ করল—যতই কঠিন হোক পথ, মনোযোগ, পরিশ্রম আর পরিকল্পনা থাকলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। মহিলা ফুটবলের এই জয় হয়তো দেশের ক্রীড়াজগতে নতুন এক দিগন্ত খুলে দেবে।

ইস্টবেঙ্গল কন্যারা আজ কেবল ইতিহাস লিখলেন না—তাঁরা ভবিষ্যতের স্বপ্নকেও বাস্তব করে তুললেন।

চিন বাদে সব দেশের উপর শুল্কনীতি স্থগিত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে ফিরল স্বস্তি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *