ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করলেন ট্রাম্প!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা শুল্কভিত্তিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের সঙ্গে বৈঠকের পর চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি।
ট্রাম্পের প্রশাসনে একাধিক দেশে শুল্ক আরোপের কড়া নীতি গৃহীত হলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়াসেই এই চুক্তি বলে মনে করা হচ্ছে। আলোচনার ফলস্বরূপ, ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত বেশ কিছু পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক হার কমিয়ে আনা হয়েছে। যদিও স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর আগের মতোই ৫০ শতাংশ শুল্ক বজায় থাকছে।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ পণ্যের উপর এখন থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সুসংহত হবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি ডলারের বিদ্যুৎসম্পর্কিত পণ্য কিনতে রাজি হয়েছে।
এই চুক্তি চূড়ান্ত না হলে ১ আগস্ট থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমস্ত পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের। সেক্ষেত্রে এই সমঝোতা দুই পক্ষের জন্যই স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন বাজারে ইউরোপের গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ এবং অন্যান্য সাধারণ পণ্যের উপর প্রায় ১০ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হয়ে থাকে। তবে নতুন এই চুক্তির ফলে গাড়ি বাদে অন্য পণ্যে শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা কমানো হয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্প জানিয়েছেন এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা বেশিরভাগ পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হলেও, ইউরোপের পক্ষ থেকে মার্কিন পণ্যের উপর কোনও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে না। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তখন পর্যন্ত জানানো হয়নি।
চুক্তির পর লিয়েনও একে “সমতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে উঠুক।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই চুক্তিটি এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বাণিজ্য সম্পর্কে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পরে এই সমঝোতা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।
বাণিজ্যচুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত এই চুক্তির ফলে বিশ্বের দুই বড় অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলো, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘সইয়ারা’ নায়িকা আনিট পাড্ডার অদ্ভুত সৌন্দর্য পরীক্ষার গল্প