ইউপিআই মাশুল নিয়ে রাহুলের নিশানায় কেন্দ্র!
ইউপিআই-এর নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনে মাশুল বসানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই ইউপিআই লেনদেনে মাশুল চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। যদিও সরকারের তরফে এই অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে।
কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর কার্যকর হওয়ার কথা। এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.৪ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল ধার্য হতে পারে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই লেনদেন মাশুলমুক্ত রাখার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে ব্যাঙ্ক বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি গ্রাহকের কাছ থেকে এই মাশুল নিতে পারবে না। রুপে ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি তুলেছেন রাহুল। বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিয়োবার্তায় তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন। রাহুলের অভিযোগ, ইউপিআই-এ মাশুল চাপিয়ে কার্যত দেশের মানুষের উপর নতুন বোঝা চাপানো হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার হাতে বিপুল অর্থ তুলে দেওয়া হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করারও আবেদন জানিয়েছেন।
রাহুলের এই বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক চাপের প্রসঙ্গ। তবে কেন্দ্রের বক্তব্য, ইউপিআই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কোনও সাম্প্রতিক বিদেশি চাপের ফল নয়। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ এবং তা প্রায় পাঁচ বছর আগেই নেওয়া হয়েছিল বলে সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের দাবি। ফলে এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও সরকারি সূত্রের বক্তব্য।
এর মধ্যেই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। আইনজীবী অঞ্জন দত্ত কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়াও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই), ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) এবং ইউপিআই কর্তৃপক্ষকে মামলায় পক্ষ করা হয়েছে। ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া ইউপিআই সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলাকারীর বক্তব্য, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপরই পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। ফলে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ইউপিআই মাশুলের বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীনও হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা নিয়ে কী আলোচনা হয়, এখন সেদিকেই নজর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।