ইউপিআইয়ে মাশুলের ভাবনা কেন?
ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই। এত দিন কার্যত বিনা মাশুলে এই পরিষেবা ব্যবহার করে এসেছেন সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এ বার নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চালুর আইনি পথ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এর পিছনে কি শুধুই ইউপিআই ব্যবস্থাকে আর্থিক ভাবে টেকসই করার ভাবনা, নাকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-চাপও কাজ করছে?
সম্প্রতি লোকসভায় ‘কর এবং অন্যান্য আইন (সংশোধনী) বিল’ পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট নেওয়ার ক্ষেত্রে থাকা আইনি বাধা সরানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনে মাশুল বসানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ২০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ০.২৫ থেকে ০.৪০ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই মাশুল কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থাৎ, আপাতত ইউপিআই লেনদেনে নতুন করে কোনও ফি চালু হয়নি।
ইউপিআইয়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণই হল এর সহজলভ্যতা এবং কম খরচ। ছোট দোকান থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের ব্যবসা— সর্বত্র দ্রুত এবং অতিরিক্ত লেনদেন ফি ছাড়াই টাকা নেওয়া-দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে এই ব্যবস্থা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে শূন্য-এমডিআর মডেল ডিজিটাল লেনদেনকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে এই মডেল বজায় রাখার খরচও কম নয়। ইউপিআই ব্যবস্থার পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং পরিষেবা পরিচালনায় ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট সংস্থাগুলিকে নিয়মিত খরচ করতে হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা কী ভাবে আর্থিক ভাবে টেকসই রাখা যাবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এর পাশাপাশি রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্য একটি দিক। ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো মার্কিন পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলির কাছে ভারতের ‘জ়িরো এমডিআর’ মডেল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ কার্ড লেনদেনে যেখানে মার্চেন্ট ফি রয়েছে, সেখানে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মাশুল ছাড়াই ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে পারেন।
বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, আমেরিকার সংস্থাগুলির স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই ইউপিআইয়ে মাশুল চালু করা উচিত নয়। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলির ডিজিটাল পরিষেবা ও পেমেন্ট বাজারে মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগের উপর জোর দিয়ে আসছে। ফলে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনার প্রেক্ষাপটেও ইউপিআইয়ের ফি কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে মাশুল চালু হলে তার প্রভাব কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এক দিকে এমডিআর ইউপিআই পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ জোগাতে পারে। অন্য দিকে, অতিরিক্ত খরচ ব্যবসায়ীদের উপর চাপলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব গ্রাহকদের উপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই ইউপিআইয়ে মাশুল বসানোর সিদ্ধান্ত শুধু একটি আর্থিক পরিবর্তন নয়। ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, দেশীয় পেমেন্ট ব্যবস্থার স্বনির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ভারসাম্য— তিন ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।