সিনারকে হারিয়ে ফের সিংহাসনে কার্লোস আলকারাজ়
আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে রবিবার গভীর রাতে যে দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বিশ্ব, তা নিঃসন্দেহে টেনিস ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতালির ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে দ্বিতীয় বার ইউএস ওপেন জিতলেন স্পেনের কার্লোস আলকারাজ়। শুধু তাই নয়, এই জয়ের ফলে আবারও বিশ্ব টেনিসের এক নম্বর হয়ে উঠলেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, আলকারাজ় অন্য রকম কিছু করতে এসেছেন। চার সেটের লড়াইয়ে (৬-২, ৩-৬, ৬-১, ৬-৪) তিনি যেন একাই একশো। সিনার, যিনি এ বছর চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের সব ক’টিতে ফাইনালে পৌঁছেছেন এবং দু’টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, তাঁর খেলায় যেন আত্মবিশ্বাসের অভাব চোখে পড়ছিল। আলকারাজ়ের শটে বার বার পথ হারাচ্ছিল তাঁর র্যাকেট।
চলতি বছর গ্র্যান্ড স্ল্যামের মঞ্চে দুই তরুণ তারকার আধিপত্যই সবচেয়ে আলোচিত। পুরুষদের সিঙ্গলসে শেষ ১১টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে ১০টি ভাগ হয়ে গেছে তাঁদের মধ্যে— আলকারাজ় ছ’টি, সিনার চারটি। ভক্তরা তাঁদের দ্বৈরথকে নাম দিয়েছেন ‘সিন-কারাজ়’। কিন্তু ইউএস ওপেনের ফাইনাল প্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিল না। প্রায় আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই কাজ সেরে ফেললেন আলকারাজ়।
সিনারের খেলার মধ্যে ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে সিনসিনাটি ওপেনের ফাইনালে আলকারাজ়ের বিপক্ষে চোটের কারণে ম্যাচ ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাঁকে। ইউএস ওপেনের ফাইনালেও মনে হচ্ছিল, শরীর সেভাবে সাড়া দিচ্ছে না। চতুর্থ সেটে যখন আলকারাজ় একই রকম চনমনে, তখন সিনারকে দেখা গেল ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে।
আলকারাজ় শুরুতেই কৌশলী আঘাত হানেন। টস জিতেও সার্ভিসের দায়িত্ব সিনারকে দিয়ে দেন, যেন চাপটা একেবারে শুরুতেই এসে পড়ে প্রতিপক্ষের উপর। পরিকল্পনা সফলও হয়। প্রথম গেমেই ভেঙে দেন সিনারের সার্ভিস। প্রতিটি পয়েন্টের পর তাঁর উচ্ছ্বাস, হুঙ্কার প্রতিপক্ষকে আরও অস্থির করে তুলছিল। বিপরীতে সিনার বরাবরের মতোই শান্ত, কিন্তু সেই শান্ত মনোভাব এ বার কাজে আসেনি। একের পর এক সহজ শটে ভুল করে বসছিলেন তিনি।
দ্বিতীয় সেটে সামান্য লড়াই করলেও, তা কেবল সাময়িক। আলকারাজ় কিছু ভুল করায় সুযোগ কাজে লাগান সিনার এবং একমাত্র সেই সেটটাই নিজের করে নেন। কিন্তু এরপর আর ফেরার রাস্তা খোলা ছিল না। তৃতীয় সেটে সিনারের সার্ভিস বার বার ভেঙে ম্যাচের লাগাম দৃঢ়ভাবে হাতে নেন আলকারাজ়। চতুর্থ সেটে আবারও একই ছবি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় ম্যাচ পয়েন্ট কাজে লাগিয়ে ট্রফি নিজের করে নিলেন স্পেনের তরুণ তুর্কি।
খেলার পরিসংখ্যানও বলে দিচ্ছে আলকারাজ়ের দাপট। গোটা ম্যাচে সিনার যেখানে মাত্র দু’টি এস মারতে পেরেছেন, আলকারাজ় সেখানে দশটি। সার্ভিস থেকেও বিশাল ব্যবধান— আলকারাজ় প্রথম সার্ভিস থেকে ৮৩ শতাংশ পয়েন্ট জিতেছেন, সিনারের প্রাপ্তি মাত্র ৬৯ শতাংশ। সিনার চার বার ডবল ফল্ট করেছেন, আলকারাজ় একবারও নয়।
স্পেন ও ইটালির মধ্যে ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস বহু পুরনো— ফুটবল থেকে শুরু করে এখন টেনিসেও সেই লড়াই চলছে। কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসরে মুখোমুখি হলে এগিয়ে আছেন আলকারাজ়ই। এ পর্যন্ত ১৫ বার সাক্ষাতে ১০ বার জিতেছেন তিনি। আর ইউএস ওপেনের মঞ্চে তো সিনারের বিরুদ্ধে তাঁর রেকর্ড শতভাগ।
ফাইনালের আগে আলকারাজ় জানিয়েছিলেন, তাঁর লক্ষ্য বিশ্বের সেরা টেনিস তারকা হওয়া, আর তার জন্য ইউএস ওপেন জেতা জরুরি। রবিবার রাতে সেই লক্ষ্যকেই বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি। সিনার যখন দ্বিধাগ্রস্ত, আলকারাজ় তখন প্রত্যয়ে ভরপুর। আর সেই পার্থক্যই তাঁকে এনে দিল ইউএস ওপেনের দ্বিতীয় শিরোপা ও টেনিস বিশ্বের সিংহাসন।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ