আসাদের পতনের পরই সিরিয়ায় আমেরিকার আক্রমণ
সিরিয়ায় এক ঐতিহাসিক পালাবদলের মধ্যেই রবিবার আইসিস ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ চালিয়েছে আমেরিকা। সিরিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল আসাদ দেশ ছাড়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। রাজধানী দামাস্কাস এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দখলে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আইসিস জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতেই আমেরিকা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
বাশার আল আসাদের বিদায় এবং আমেরিকার প্রতিক্রিয়া
২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে সিরিয়ার শাসনে টানাপোড়েন অব্যাহত ছিল। বাশার আল আসাদ, যিনি ২০০০ সাল থেকে সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন, এবার বিদ্রোহীদের চাপে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সূত্র অনুযায়ী, আসাদ বর্তমানে মস্কোয় অবস্থান করছেন, যেখানে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আসাদের বিদায়ের খবর পাওয়ার পরই হোয়াইট হাউস থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, “সিরিয়ার মসনদের শূন্যতা কাজে লাগিয়ে আইসিস নতুন করে মাথাচাড়া দিতে পারে। কিন্তু আমেরিকা কখনোই তা হতে দেবে না। সিরিয়ায় আইসিসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।”
আমেরিকার হামলার বিবরণ
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সিরিয়ার অভ্যন্তরে অন্তত ৭৫টি আইসিস ঘাঁটিতে আকাশপথে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এই হামলা আমেরিকার নির্দেশে পরিচালিত হয়, যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা ৯০০ সেনাসদস্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আমেরিকার সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, হামলায় আইসিস ঘাঁটিগুলিতে লক্ষ্যভেদ করা সম্ভব হয়েছে।
গোলান মালভূমি দখলে ইসরায়েলের পদক্ষেপ
আসাদের পতন ও সিরিয়ায় সরকারহীনতার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ইসরায়েল। রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, গোলান মালভূমির সিরীয় অংশে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সকে (আইডিএফ)। নেতানিয়াহু বলেন, “কোনো শত্রু শক্তিকে আমাদের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেব না। সিরিয়ার সঙ্গে গোলান মালভূমি নিয়ে চুক্তি আসাদের সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেছে।”
বিদ্রোহীদের ক্ষমতা দখল এবং দামাস্কাসের বর্তমান পরিস্থিতি
সিরিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শাম (এইচটিএস) গত ২৭ নভেম্বর বিদ্রোহের ডাক দেয়। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যস্থতায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর এই বিদ্রোহ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিদ্রোহীরা একের পর এক শহর দখল করে রবিবার রাজধানী দামাস্কাসে প্রবেশ করে। এতে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালান আসাদ।
সিরিয়ার ভবিষ্যৎ: প্রশ্ন ও উত্তরের দোলাচল
বর্তমানে সিরিয়া এক নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি। আসাদের পরিবার প্রায় ছয় দশক ধরে দেশটির শাসন করেছে। তাঁর পতন সিরিয়ার ইতিহাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ এবং আমেরিকা ও ইসরায়েলের আক্রমণ সিরিয়ার ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিদ্রোহীদের দখল নেওয়ার পর আমেরিকার এই পদক্ষেপ কীভাবে আইসিসকে দমনে সাহায্য করবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—সিরিয়া কি আরও অস্থিরতার পথে যাচ্ছে নাকি সেখানে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে?