আল-কায়দার হাতে বাবাকে হারিয়েছেন!
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ইরাক হয়তো জয় পায়নি, কিন্তু দলের অধিনায়ক Aymen Hussein নিজের লড়াইয়ের গল্প দিয়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছেন। নরওয়ের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলে হারলেও তাঁর করা একমাত্র গোলটি যেন শুধুই স্কোরবোর্ডের সংখ্যা ছিল না, ছিল জীবনসংগ্রামের এক প্রতীক।
মঙ্গলবারের ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর সতীর্থের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফিরিয়েছিলেন হুসেন। সেই মুহূর্তে ইরাকের সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি দল। তবু আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তাঁদের অধিনায়ক।
হুসেনের গল্প শুরু হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের আল-সাফারা অঞ্চলে। শৈশব কেটেছে বিস্ফোরণের শব্দ, গুলির আওয়াজ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে। অন্য অনেক শিশুর মতো তাঁর কাছেও ফুটবল ছিল বাস্তবের কঠিন জীবন থেকে কিছুটা মুক্তির পথ।
কিন্তু মাত্র ১২ বছর বয়সেই জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত পান তিনি। তাঁর বাবা, যিনি ইরাকের সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, নতুন বাড়ি তৈরির সামগ্রী কিনতে বেরিয়ে আল-কায়দা জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন। বাবার স্বপ্নের সেই বাড়ি আর কখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
এক পুরনো সাক্ষাৎকারে হুসেন জানিয়েছিলেন, ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন তাঁর খ্যাতি বা জনপ্রিয়তার জন্য ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন এমন অবস্থানে পৌঁছতে, যাতে বাবার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।
তবে দুর্ভাগ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতেন তিনি। তাঁর মা ও বড় ভাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একসময় তাঁদের নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু কেউ রাজি হননি।
এরপর জাতীয় দলের অনুশীলন শিবির থেকে ফেরার পথে আরও ভয়ঙ্কর খবর পান হুসেন। জানতে পারেন, আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাঁর দাদাকে অপহরণ করা হয়েছে। সেই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
সেই কঠিন সময়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠেন মা। তিনিই ছেলেকে স্বপ্নের পিছনে ছুটতে উৎসাহ দেন এবং হাল না ছাড়ার শিক্ষা দেন। মায়ের সেই কথাই বদলে দেয় হুসেনের জীবন।
ধীরে ধীরে ইরাকের বড় ক্লাবগুলির নজরে আসেন তিনি। দেশের অন্যতম সফল স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে জাতীয় দলের নেতৃত্বও পান। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ইরাকের বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়ার পিছনেও তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই নরওয়ের বিরুদ্ধে গোল করার মুহূর্তটি ছিল শুধুই একটি ক্রীড়া অর্জন নয়। সেটি ছিল এক যোদ্ধার গল্পের আরেকটি অধ্যায়— এমন একজন মানুষের, যিনি সন্ত্রাস, শোক, ভয় এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?