আর জি কর কাণ্ড: ‘বর্তমান তদন্তে আস্থা নেই’, মেয়ের খুনের নতুন তদন্ত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

আর জি কর কাণ্ড আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু আজও অন্ধকারে। মেয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার পেতে, হাইকোর্টে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের পরিবার। তাদের…

December 19, 2024
1 min read

আর জি কর কাণ্ড

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু আজও অন্ধকারে। মেয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার পেতে, হাইকোর্টে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের পরিবার। তাদের অভিযোগ, সিবিআই যে তদন্ত করছে, তা যথেষ্ট নয় এবং তাতে তারা আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের দাবি, এই তদন্তে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলা হয়েছে। এখনই আদালত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে হাতের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা পরিবারের।

নিহত চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, আদালত যেন এই মামলায় সিবিআই-এর ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করে এবং নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরিবারের মতে, সিবিআই তদন্তে কোনো কার্যকর ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও সিবিআই চার্জশিট জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে, অভিযুক্ত আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল জামিন পেয়ে গেছেন।

পরিবারের তরফে এক সদস্য জানিয়েছেন, “সিবিআই যখন আমাদের সঙ্গে কথা বলতো, তখন অনেক তথ্য জানাতো। আমরা নিজেরাও তাদের অনেক তথ্য দিয়েছি। কিন্তু এখন তারা বলছে যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। হাসপাতালের সহকর্মীরা যে তথ্য আমাদের দিয়েছে, সেগুলোও সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। তারপরেও তারা এমন দাবি করছে, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তদন্তে অগ্রগতির অভাবে নিহত চিকিৎসকের মা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, “সিবিআই-এর প্রতি আমাদের আস্থা ছিল। কিন্তু এখন তা ভেঙে গিয়েছে। আমরা কখনও ভাবিনি যে অভিযুক্তরা এত সহজেই জামিন পেয়ে যাবে। এটা শুধু আমাদের নয়, বিচার ব্যবস্থারও পরাজয়।”

হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ইতিমধ্যেই এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই-কে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সোমবার আদালতে বিষয়টি আবার উত্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তদন্তের সময়কাল এত লম্বা হওয়া উচিত ছিল না। তাদের মতে, প্রমাণ সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু সিবিআই-এর ঢিলেমির কারণে মামলায় একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার খবর শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আর জি করের চিকিৎসক সম্প্রদায়ের একাংশ। তারা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধুমাত্র নিহত চিকিৎসকের নয়, বরং পুরো চিকিৎসক সমাজের জন্য একটি কালো দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

ন্যায়বিচারের পথে দীর্ঘ লড়াই

নিহত চিকিৎসকের পরিবার এক কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছে। তাদের বিশ্বাস, আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া সত্যের প্রকাশ অসম্ভব। তারা জানান, “এই মামলায় আমরা যে কষ্ট সহ্য করছি, তা আমাদের এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি দেয় না। আমরা আশা করছি, আদালত আমাদের আরেকবার সুবিচার পেতে সাহায্য করবে।”

নিহত চিকিৎসকের প্রতি ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা রক্ষা করতে সঠিক তদন্ত এবং সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে কিনা, তা দেখার জন্য এখন নজর রয়েছে আদালতের দিকেই।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *