আমেরিকা, ‘স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে দাও! ফ্রান্সের বিস্ফোরক দাবি

১৩৯ বছর আগে আমেরিকাকে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক উপহার এবার ফেরত চাইল ফ্রান্স! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব, নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, যা বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত—এবার সেটিই ফিরিয়ে নিতে চাইল…

March 20, 2025
1 min read

১৩৯ বছর আগে আমেরিকাকে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক উপহার এবার ফেরত চাইল ফ্রান্স! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব, নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, যা বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত—এবার সেটিই ফিরিয়ে নিতে চাইল ফরাসি আইনপ্রণেতা রাফায়েল গ্লাকসম্যান। তাঁর দাবি, “যে মূল্যবোধের জন্য ফ্রান্স এই মূর্তি উপহার দিয়েছিল, আজকের আমেরিকা সেই আদর্শ বহন করে না। তাই এটি আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন!”

আমেরিকা স্বাধীনতার প্রতীক, ফ্রান্সের উপহার

১৮৮৬ সালে ফ্রান্স বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি আমেরিকাকে উপহার দেয়। প্রায় ৩০৫ ফুট উঁচু এই মূর্তিটি আজও বিশ্বের অন্যতম শ্রদ্ধার প্রতীক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকার রাজনীতি ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই মূল্যবোধ আর ধরে রাখতে পারেনি। এই দাবির জেরেই গ্লাকসম্যান সরব হয়েছেন, যা নতুন করে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কেন এমন দাবি?

গ্লাকসম্যান মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেই এই দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, আমেরিকা এখন স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে আর উপযুক্ত নয়। তিনি বলেন, “আমেরিকার কিছু মানুষ এখন স্বৈরাচারীদের সমর্থন করছে, গবেষকদের দমন করছে, এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। এই মূর্তি যে আদর্শের প্রতীক, তা আজকের আমেরিকা রক্ষা করতে পারছে না। তাই এটি ফ্রান্সে ফিরে আসা উচিত।”

হোয়াইট হাউসের কড়া প্রত্যাখ্যান

ফ্রান্সের এই দাবির পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ফেরানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, আমেরিকা না থাকলে আজ ফরাসিরা জার্মান ভাষায় কথা বলত! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমরা তাদের রক্ষা করেছি, ফ্রান্সের উচিত আমেরিকার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।”

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি রাজনৈতিক চাল?

এই বিতর্ক শুধু একটি মূর্তির নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি শুধুমাত্র একটি তামার তৈরি ভাস্কর্য নয়, এটি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক। আমেরিকাকে এটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি নিছকই একটি রাজনৈতিক কৌশল, নাকি সত্যিই মূল্যবোধের পরিবর্তনের প্রতিফলন—তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা চলছে।

ফ্রান্স-আমেরিকার সম্পর্ক কি নতুন মোড় নেবে?

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ একদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে চাইছেন, অন্যদিকে তাঁর বেশ কিছু নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছেন। বিশেষ করে আমেরিকার বাণিজ্য নীতির কারণে ইউরোপের ওপর যে শুল্কের বোঝা পড়ছে, তা নিয়ে ফ্রান্স ক্ষুব্ধ। এই পরিস্থিতিতে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির দাবি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

শেষ কথা

স্ট্যাচু অফ লিবার্টি কি সত্যিই ফিরবে ফ্রান্সে? নাকি এটি শুধুই এক রাজনৈতিক বিতর্ক? উত্তর এখনও অনিশ্চিত, তবে একথা নিশ্চিত যে এই দাবির পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন আলোচনার ঝড় উঠেছে।

রাজনীতি, খেলা ও আবহাওয়া: আজকের আলোচিত খবর

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *