আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজ়রায়েল-লেবাননের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি, তবু কি থামবে হিজ়বুল্লা? শান্তির পথে এখনও বড় প্রশ্ন

আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজ়রায়েল-লেবাননের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি! পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাত থামাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে সই করল ইজ়রায়েল ও লেবানন। শুক্রবার ওয়াশিংটনে আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর…

June 27, 2026
1 min read

আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজ়রায়েল-লেবাননের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি!

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাত থামাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে সই করল ইজ়রায়েল ও লেবানন। শুক্রবার ওয়াশিংটনে আমেরিকাকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। লক্ষ্য, লেবাননের ভূখণ্ডে ইজ়রায়েলি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার সংঘাতের অবসান ঘটানো। তবে চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। কারণ, হিজ়বুল্লা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই চুক্তির বাস্তবায়নে কোনও সহযোগিতা করবে না।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তার পর থেকেই হিজ়বুল্লা ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে। পাল্টা অভিযানে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন করে ইজ়রায়েল।

সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে লেবাননে চার হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে, হিজ়বুল্লার হামলায় ইজ়রায়েলের ৩২ জন সেনা এবং চার জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও বারবার বাধার মুখে পড়ছিল।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার উদ্যোগে আলোচনার পথ খুলে যায়। ওয়াশিংটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ, ইজ়রায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে রুবিয়ো বলেন, এটি শান্তির পথে প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইজ়রায়েল। প্রথম পর্যায়ে দু’টি নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সেনা সরানো হবে। ইজ়রায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার পর সেই এলাকার দায়িত্ব নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে লেবাননের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে আর্থিক সহায়তা দেবে আমেরিকা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে সমন্বয় করে ১০ কোটি ডলারের মানবিক সাহায্যের ঘোষণাও করা হয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই চুক্তিকে দেশের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এর ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত হবে। অন্য দিকে, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগোবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইজ়রায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার মন্তব্য করেন, এই উদ্যোগ ইরানের প্রভাব কমানোর পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এতটা সহজ নয়। কারণ, হিজ়বুল্লা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিরস্ত্রীকরণ বা চুক্তির শর্ত মানতে রাজি নয়। ফলে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এরই মধ্যে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কও নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি সংঘর্ষবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সুইৎজ়ারল্যান্ডে বৈঠকের পর আশার আলো দেখা গেলেও, হরমুজ় প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আবার উত্তেজনা বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

ফলে ইজ়রায়েল-লেবানন চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও, হিজ়বুল্লার অবস্থান, ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক এবং সীমান্তের বাস্তব পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করবে এই সমঝোতা কতটা সফল হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics
US

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *