“আমি তো জাদুকর নই!”—মমতার তোপ কেন্দ্রকে, বকেয়া টাকা নিয়ে কড়া বার্তা জলপাইগুড়ি থেকে

মমতার তোপ কেন্দ্রকে "আমি কি ম্যাজিশিয়ান, যে উপর থেকে টাকা পড়ে যাবে?"—কেন্দ্রীয় সরকারের বকেয়া টাকা নিয়ে ফের একবার বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবাস যোজনা, গ্রামীণ সড়ক এবং ১০০ দিনের কাজ—এই তিন…

May 21, 2025
1 min read

মমতার তোপ কেন্দ্রকে

“আমি কি ম্যাজিশিয়ান, যে উপর থেকে টাকা পড়ে যাবে?”—কেন্দ্রীয় সরকারের বকেয়া টাকা নিয়ে ফের একবার বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবাস যোজনা, গ্রামীণ সড়ক এবং ১০০ দিনের কাজ—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কেন্দ্রের থেকে গত চার বছর ধরে কোনও অর্থসাহায্য পাচ্ছে না রাজ্য। সেই অভাব পূরণ করতেই রাজ্য সরকার ‘বঙ্গীয় সংস্করণ’ চালু করেছে নিজস্ব অর্থে। কিন্তু তাতে রাজ্যের অর্থভাণ্ডার যে কী চাপে রয়েছে, তারই হিসেব তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে এক সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে বকেয়া। তার মধ্যেও রাজ্য সরকার প্রতিটি প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে। আমি তো জাদুকর নই যে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর মতো উপর থেকে টাকা নামিয়ে ফেলব!”

এই অনুষ্ঠানেই তিনি ঘোষণা করেন, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ সেই দিন থেকেই ১২ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে। রাজ্যের খরচ? প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। মমতা আরও জানান, আগামী ডিসেম্বরেই আরও ১৬ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তি পাবেন এবং পরের বছরের মে মাসে দেওয়া হবে দ্বিতীয় কিস্তি।

একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাম না করেই বিরোধীদেরও কড়া বার্তা দেন মমতা। বলেন, “কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—বিনিয়োগের অঙ্ক কত? আমি কেন আপনাদের সেটা বলতে যাব? আপনি কে?” উত্তরবঙ্গের বণিকদের নিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত বাণিজ্য সম্মেলন ঘিরেই বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন, কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে, তা জানানো হচ্ছে না কেন। তারই জবাব মমতার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয় ক্ষোভে।

তিনি আরও বলেন, “জিএসটি চালু করেছে কেন্দ্র, অথচ সেখান থেকে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। একদিকে কর নিচ্ছে, আরেকদিকে রাজ্যের অংশ আটকে দিচ্ছে—এটা কি চলে?” ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও কেন্দ্র বিভিন্নভাবে কর আদায় করছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার প্রায় ২ লক্ষ মানুষের কাছে সরাসরি বিভিন্ন প্রকল্প পৌঁছে দিতে পেরেছে। উদ্বোধন হয়েছে নতুন রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজের। আগামী দিনে আরও উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

মমতা বলেন, “অনেকে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝেন না। কিন্তু যাঁরা বাংলাকে গাল দিচ্ছেন, বুঝে নিন—আমাকে অপমান মানে বাংলাকে অপমান করা।”

এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লাও। রাজনৈতিক মহলে মমতার এই মন্তব্য এবং জন বার্লার উপস্থিতিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) সংক্রান্ত মামলার পটভূমিতেও মমতার বক্তব্য যথেষ্ট জোরালো। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে জুন মাসের মধ্যে বকেয়া ডিএ-এর ২৫ শতাংশ মেটাতে বলেছে। এই খাতে খরচ পড়তে পারে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বললেও তাঁর ‘আমি তো ম্যাজিশিয়ান নই’ মন্তব্যে পরিস্থিতির চাপ স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে জলপাইগুড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে যেমন অর্থনৈতিক বঞ্চনার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন, তেমনই নিজের প্রশাসনের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেছেন দৃঢ় কণ্ঠে।

দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *